দুদক চেয়ারম্যানের ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শন, শুনলেন রোগীদের অভিযোগ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান ও কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তারা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাধারণ রোগীদের নানাবিধ অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা শোনেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২.৩৫ টার সময় দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করেন।
প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খানসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তারা।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহিঃবিভাগ পরিদর্শনকালে দুদক কর্মকর্তারা রোগীদের শয্যাপাশে যান এবং তাদের চিকিৎসা প্রাপ্তির সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় রোগীরা দালাল চক্রের হয়রানি সহ বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। দুদক চেয়ারম্যান রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি সব ধরনের অনিয়ম বন্ধের তাগিদ দেন।
পরিদর্শন শেষে দুপুর ১২:৫৬ মিনিটের দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস কনফারেন্সে মিলিত হন দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম রুখতে দুদক তৎপর রয়েছে।
দুদকের চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে কোনরকম ব্যবস্থা নেই এবং পেশেন্ট পাচ্ছে না অনেক সুবিধাই। একদম জরাজীর্ণ পরিবেশ দেখলাম হাসপাতালে এসে। সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রায় একই অবস্থা যদিও তবে ঢাকায় যে এইরকম অবস্থা সারাদেশে তো আরও খারাপ অবস্থা। মেডিকেল থেকে রুগীকে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর সাথে ডাক্তারদের বড় একটা অংশ জড়িত আছে কিনা এটাও আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।
প্রেস কনফারেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আগে ঠিক মতো হাসপাতালে ঔষুধ পাওয়া যেতনা এখন মেজরিটি অফ দা ঔষধ আমরা পাচ্ছি এবং অনেকটা ইমপ্রুভ হয়েছে আগের থেকে। তবে পুরোপুরি ইমপ্রুভ করতে কিছুটা সময় লাগবে। আপনারা দেখছেন এখানে দুজন চেয়ারম্যান এবং দুই কমিশনার আছেন তাদের উপস্থিতিতেই আপনারা অব্যবস্থাপনাটা দেখলেন রোগীদের অভিযোগ দেখলেন, এইটা কিন্তু চিরাচরিতভাবে চলে আসছে। আপনারা জানেন এখানে ২৬০০ বেড প্রতিদিন এখানে আউটডোরে দূর থেকে অনেক রোগী আসে। আমরা ভালো করি। এখানে রোগীরা যদি হয়, অথবা রোগীর আধিক্যের জন্য কোন রোগী মিস ম্যানেজ হয়ে এখান থেকে চলে যায়, এই ধরনের কোনো খারাপ আমাদের নাই। ইনশাল্লাহ আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরকারের একটা প্রায়রিটি। আমাদের ডাক্তার, চিকিৎসক, নার্স, সব মিলে আমরা আছি। ইনশাল্লাহ আমরা ভবিষ্যতে থাকব। আমরা আশা করি ভালো কিছু হবে ইনশাল্লাহ।
চাঁদপুরের মতলব নালুয়া আশ্রম থেকে আসা এক রোগীর স্বজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, এখানে ভালো চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক দালান আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায়। কিন্তু এখন তার কোন খবর পাচ্ছিনা। খুঁজেও পাচ্ছিনা। আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। আমার স্বামী একজন সামান্য রিকশাচালক।
প্রেস কনফারেন্স শেষ করে দুপুর ১.১০ মিনিটের দিকে দুদক চেয়ারম্যান ও তাঁর সফরসঙ্গী কর্মকর্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে দুদকের এই আকস্মিক পরিদর্শন সাধারণ রোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
