মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন শীর্ষক মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৫ নভেম্বর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় বলে মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক স্বাক্ষরিত এক প্রেস নোটে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস নোটে আরো জানানো হয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক, এমপি সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চীন থেকে আগত উচ্চপর্যায়ের অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে CCECC কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রকল্পের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ১০ ও ১১ নম্বর জেটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পটির মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর নির্মাণকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ বছর।
জেটি ও ইয়ার্ডের ৩৬৮ মিটার দীর্ঘ ও ৪০ মিটার প্রশস্ত জেটিতে একসাথে দুটি ২০০০০ DWT অথবা একটি ৫০০০০ DWT জাহাজ ভিড়তে পারবে। প্রকল্পের মোট ক্ষেত্রফল ২২৭,০০০ বর্গমিটার, যার মধ্যে লোডেড কন্টেইনার ইয়ার্ড ৮৭,৬০০ বর্গমিটার এবং অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। প্রকল্পের প্রধান আওতায় রয়েছে ৪টি শোর টু শিপ ক্রেন, ৭টি আরটিজিএস, ১০টি টার্মিনাল ট্রাক্টর, ১০টি ট্রেইলার এবং ফিক্সড কন্টেইনার স্ক্যানারসহ মোট ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে এবং বার্ষিক ৪ লাখ টিইইউজেস (TEUs) কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জিত হবে। এর ফলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
এছাড়া বিজিএমইএ (BGMEA), বিকেএমইএ (BKMEA), বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী স্বতন্ত্র কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসার প্রসার ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় বলে প্রেস নোটে জানানো হয়।
