ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ মে ২০২৩, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ::
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'যমুনা প্রতিদিন ডট কম' এ আপনাকে স্বাগতম...

পরিবারের আপত্তি,বাবা-মা’কে না জানিয়েই বিয়ে করলেন জাহিদুল-লামিয়া

সঞ্জিব দাস,গলাচিপা(পটুয়াখালী)
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৩ ২৬৩ বার পড়া হয়েছে
যমুনা প্রতিদিন অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় মহিপুর থানার গঙ্গামতি গ্রামে বাবা-মাকে না জানিয়ে বিয়ে করলেন জাহিদুল ও লামিয়া।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) মোকাম পটুয়াখালী বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে জাহিদুল ও লামিয়া উপস্থিত হয়ে বিবাহ সম্পন্ন করেন। যার রেজিঃ নম্বর ৭৮ তারিখ- ১০/০১/২০২৩।

বর মো. জাহিদুল (২২) হচ্ছেন মহিপুর থানার গঙ্গামতি গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার মিয়ার ছেলে। আর কনে মোসা. লামিয়া (১৮) হচ্ছেন কলাপাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের মেয়ে।

জানা যায় দীর্ঘ ৩ বছরের পরিচয় ছিল জাহিদুল ও লামিয়ার।এই পরিচয় থেকে প্রেম আর প্রেম থেকেই বিয়ে করে লামিয়াকে স্ত্রী হিসেবে বরণ করে জাহিদুল।

ভালোবাসা যুগে যুগে তৈরি করেছে ইতিহাস। কেউ হয়েছে দেউলিয়া কেউ আবার হারিয়েছে জীবন। তবে মহিপুরের ব্যবসায়ী জাহিদুল কলাপাড়ার লামিয়াকে বিয়ে করে তাদের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিলেন।৩ বছর আগে মোবাইল ফোনের ভুল নম্বরে তাদের পরিচয় হয়। প্রতিদিনের কথোপকথনে ঘটে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক। এরপর বিয়ে।পরিবার মেনে না নেওয়ায় তাদের অমতে পালিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করলেন তারা। উভয়ের পরিবারের সদস্যদের আপত্তির কারণে তারা বাধ্য হয়েই বিয়ে করেন।

এ দিকে পরিবারের সদস্যদের আপত্তির কারণে বিয়ে করায় স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে উঠতে পারেননি জাহিদুল। এলাকাবাসী জাহিদুলকে তার স্ত্রী লামিয়াসহ জোর করে জাহিদুলের বাবার ঘরে উঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে জাহিদুল বলেন, আমাদের ভালোবাসাটাই ছিল অন্যরকম।একদিন আমি ভুল করে লামিয়ার নম্বরে ফোন দিলে কথা হয় লামিয়ার সাথে।ওর কথা শুনেই ওকে ভালো লাগে আমার। এরপর আমাদের মাঝে একটা ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি তার ভালোবাসা আর গুণে মুগ্ধ।

এ বিষয়ে লামিয়া বলেন,৩ বছর আগে আমার সাথে জাহিদুলের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়।সেই থেকেই আমরা একে অপরকে ভালোবেসেছি। কিন্তু আমাদের পরিবার তা মেনে নেয় নি।আমি এখন প্রাপ্ত বয়স্ক। নিজের ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা আমার আছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে কোর্টের মাধ্যমের জাহিদুলকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা বিবাহ করি। কারণ অন্য কেউ আমার জীবনে আসুক এটা আমি চাই না।

এ বিষয়ে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা দেন মোহরের বিনিময়ে ইসলামি শরিয়ত মতে কলেমা পড়ে লামিয়া ও জাহিদুলের বিবাহের পর আদালতে তারা হলফনামায় বিবাহের ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে লামিয়ার বাবা-মা আব্দুর রহমান ও নাজমুন নাহার মুঠো ফোনে জানান, আমার মেয়ে আমাদের অজান্তে বিবাহ বসেছে বলে শুনেছি। মেয়ে যদি এটাকেই ভালো মনে করে এবং জাহিদুলকে নিয়ে সুখী হতে চায় তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নাই।

এ বিষয়ে জাহিদুলের বাবা আনোয়ার মিয়া জানান, আমার ছেলে আমাদেরকে না জানিয়েই বিবাহ করেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে হতাশ। সে পালিয়ে কেন বিবাহ করবে। তাকে তো আমরা ঘটা করে বিয়ে করাতে চেয়েছিলাম। তারপরও এলাকাবাসী আমাকে ধরেছে তাদেরকে মেনে নেওয়ার জন্য। ওরা যদি এতে সুখী হয় তাতেই আমাদের সুখ। কিন্তু ওদের মধ্যে কোন সময় মনোমালিন্য বা ঝামেলা হলে সেই ঝামেলার মধ্যে আমি নাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পরিবারের আপত্তি,বাবা-মা’কে না জানিয়েই বিয়ে করলেন জাহিদুল-লামিয়া

আপডেট সময় : ০২:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৩

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় মহিপুর থানার গঙ্গামতি গ্রামে বাবা-মাকে না জানিয়ে বিয়ে করলেন জাহিদুল ও লামিয়া।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) মোকাম পটুয়াখালী বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে জাহিদুল ও লামিয়া উপস্থিত হয়ে বিবাহ সম্পন্ন করেন। যার রেজিঃ নম্বর ৭৮ তারিখ- ১০/০১/২০২৩।

বর মো. জাহিদুল (২২) হচ্ছেন মহিপুর থানার গঙ্গামতি গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার মিয়ার ছেলে। আর কনে মোসা. লামিয়া (১৮) হচ্ছেন কলাপাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের মেয়ে।

জানা যায় দীর্ঘ ৩ বছরের পরিচয় ছিল জাহিদুল ও লামিয়ার।এই পরিচয় থেকে প্রেম আর প্রেম থেকেই বিয়ে করে লামিয়াকে স্ত্রী হিসেবে বরণ করে জাহিদুল।

ভালোবাসা যুগে যুগে তৈরি করেছে ইতিহাস। কেউ হয়েছে দেউলিয়া কেউ আবার হারিয়েছে জীবন। তবে মহিপুরের ব্যবসায়ী জাহিদুল কলাপাড়ার লামিয়াকে বিয়ে করে তাদের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিলেন।৩ বছর আগে মোবাইল ফোনের ভুল নম্বরে তাদের পরিচয় হয়। প্রতিদিনের কথোপকথনে ঘটে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক। এরপর বিয়ে।পরিবার মেনে না নেওয়ায় তাদের অমতে পালিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করলেন তারা। উভয়ের পরিবারের সদস্যদের আপত্তির কারণে তারা বাধ্য হয়েই বিয়ে করেন।

এ দিকে পরিবারের সদস্যদের আপত্তির কারণে বিয়ে করায় স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে উঠতে পারেননি জাহিদুল। এলাকাবাসী জাহিদুলকে তার স্ত্রী লামিয়াসহ জোর করে জাহিদুলের বাবার ঘরে উঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে জাহিদুল বলেন, আমাদের ভালোবাসাটাই ছিল অন্যরকম।একদিন আমি ভুল করে লামিয়ার নম্বরে ফোন দিলে কথা হয় লামিয়ার সাথে।ওর কথা শুনেই ওকে ভালো লাগে আমার। এরপর আমাদের মাঝে একটা ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি তার ভালোবাসা আর গুণে মুগ্ধ।

এ বিষয়ে লামিয়া বলেন,৩ বছর আগে আমার সাথে জাহিদুলের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়।সেই থেকেই আমরা একে অপরকে ভালোবেসেছি। কিন্তু আমাদের পরিবার তা মেনে নেয় নি।আমি এখন প্রাপ্ত বয়স্ক। নিজের ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা আমার আছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে কোর্টের মাধ্যমের জাহিদুলকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা বিবাহ করি। কারণ অন্য কেউ আমার জীবনে আসুক এটা আমি চাই না।

এ বিষয়ে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা দেন মোহরের বিনিময়ে ইসলামি শরিয়ত মতে কলেমা পড়ে লামিয়া ও জাহিদুলের বিবাহের পর আদালতে তারা হলফনামায় বিবাহের ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে লামিয়ার বাবা-মা আব্দুর রহমান ও নাজমুন নাহার মুঠো ফোনে জানান, আমার মেয়ে আমাদের অজান্তে বিবাহ বসেছে বলে শুনেছি। মেয়ে যদি এটাকেই ভালো মনে করে এবং জাহিদুলকে নিয়ে সুখী হতে চায় তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নাই।

এ বিষয়ে জাহিদুলের বাবা আনোয়ার মিয়া জানান, আমার ছেলে আমাদেরকে না জানিয়েই বিবাহ করেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে হতাশ। সে পালিয়ে কেন বিবাহ করবে। তাকে তো আমরা ঘটা করে বিয়ে করাতে চেয়েছিলাম। তারপরও এলাকাবাসী আমাকে ধরেছে তাদেরকে মেনে নেওয়ার জন্য। ওরা যদি এতে সুখী হয় তাতেই আমাদের সুখ। কিন্তু ওদের মধ্যে কোন সময় মনোমালিন্য বা ঝামেলা হলে সেই ঝামেলার মধ্যে আমি নাই।