দায়িত্বশীল জায়গা থেকে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য বড় অশনি সংকেত : জেজেইউ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান কর্তৃক লাইভে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)।
সংগঠনটি মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।
সংগঠনটির পাঠানো এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে কারও দ্বিমত বা আপত্তি থাকতেই পারে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সেই দ্বিমত প্রকাশ, সমালোচনা এবং প্রতিবাদের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাশেদ খানের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর বা সরকারের কোনো পক্ষের কোনো বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দ্বিমত থাকলে তা যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকারও সবার রয়েছে। তবে কোনো পক্ষেরই এমন আচরণ করা উচিত নয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে।
জেজেইউ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ, মতামত তুলে ধরা এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের নিজ নিজ দায়িত্বশীলতা যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ সমানভাবে প্রত্যাশিত।
সংগঠনটির মতে, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনের জন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের শক্তিশালী ও কার্যকর মাধ্যম থাকলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাই এ ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানাচ্ছে জেজেইউ।
একই সঙ্গে সম্প্রতি ‘দৈনিক আমার দেশ’ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যেন ভয়ভীতি, হামলা কিংবা কোনো ধরনের চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মূল প্রত্যাশা ছিল একটি স্বাধীন গণমাধ্যম, পূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ) সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
