গ্রাহক সেবায় অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে সিংড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিংড়া জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা, বিল সংক্রান্ত জটিলতা এবং দালাল চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহকের দাবি, নতুন সংযোগ, মিটার পরিবর্তন কিংবা বিভিন্ন কারিগরি সেবা পেতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের পরও অনেক ক্ষেত্রে অযথা বিলম্বের শিকার হতে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং অর্থ প্রদান করলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয় বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।
কয়েকজন গ্রাহক আরও অভিযোগ করেন, কখনো কখনো বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ব্যবহার ও বিলের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে তা সংশোধনের জন্য একাধিকবার অফিসে যেতে হয়, যা সময় ও ভোগান্তি বাড়ায়।
এদিকে সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লো-ভোল্টেজ ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রেও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান কয়েকজন গ্রাহক। তাদের অভিযোগ, অনলাইন তথ্য ও বিভিন্ন সেবাসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ না হওয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, “কিছু কাজের জন্য অফিসে বারবার যেতে হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যায় না। এতে সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েন।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিংড়া জোনাল অফিসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অফিসে সেবাদান নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
