যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবািয়ত?

শ্যামল শীল :: প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

৪ নভেম্বর, বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে তা কার্যকর হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন ছিল জাতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যেন মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন, সেটিই সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা।

তবে স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংবিধানে ঘোষিত এসব আদর্শের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে। গণতান্ত্রিক চর্চা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সরকারি সেবায় বৈষম্য দূর করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের মতামতের মূল্যায়ন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।

সংবিধানের আলোকে নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। একজন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকের অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে রক্ষা করতে হবে।

সংবিধান দিবস আমাদের শুধু অতীতের ঐতিহাসিক অর্জন স্মরণ করিয়ে দেয় না, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও ভাবতে শেখায়। সংবিধান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাগরিক অধিকার সম্পর্কে আলোচনা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়েই এর প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সবশেষ বলা যায় যে, সংবিধান কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি আইনগত দলিল নয়, এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব,গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ সংবিধানের পাতায় লেখা সাম্য,মানবিক মর্যাদা,ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের অঙ্গীকার বাস্তব জীবনে কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।।সেটিই আজকের দিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।সংবিধানের প্রতিদিন নাগরিক অধিকার বাস্তবের নিশ্চিত হবে এবং একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

লেখক: সাবেক জবি, শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।