কারাগারেই কাটল জুনাইদ আহমেদ পলকের জন্মদিন

কারাগারেই কেটেছে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ৪৬তম জন্মদিন। রোববার (১৭ মে) তাঁর জন্মদিন। তবে বিগত বছরগুলোর মতো এবার কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই; ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারেই কেটেছে তাঁর বিশেষ এই দিনটি।
১৯৮০ সালের ১৭ মে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের তেলিগ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জুনাইদ আহমেদ পলক।
তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় সিংড়া দমদমা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, যেখান থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও তালিকাভুক্ত হন পলক।
ছাত্রজীবন শেষ করেই, মাত্র ২০ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন জুনাইদ আহমেদ পলক। এরপর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন দেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
পরবর্তীতে টানা কয়েক মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের আইসিটি খাতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, হাই-টেক পার্ক নির্মাণ এবং তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে উদ্বুদ্ধকরণে তাঁর ভূমিকা বেশ আলোচিত হয়। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) তাঁকে ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার’ হিসেবে মনোনীত করেছিল।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের একটি সময়ে রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলায় তিনি অভিযুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে এই মামলাগুলো বিচারাধীন।
ব্যক্তিগত জীবনে জুনাইদ আহমেদ পলক বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর নাম আরিফা জেসমিন কনিকা। এই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে।
