যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

ভিক্ষার টাকায় সংসার, ৭৭ বছরের অসুস্থ স্ত্রীর একমাত্র ভরসা ৮৩ বছরের স্বামী

শেরপুর প্রতিনিধি : প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ এএম

বয়স ৮৩ বছর। বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। নিজের চলাফেরাই কষ্টকর। তবু থেমে নেই সংসারের দায়িত্ব। ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই চলে দুজনের সংসার। অন্যদিকে, ৭৭ বছর বয়সী অসুস্থ স্ত্রী ময়না বিবির দেখাশোনার দায়িত্বও পালন করছেন নিজ হাতে। ছয়-সাত বছর ধরে অসুস্থ স্ত্রীর একমাত্র ভরসা হয়ে আছেন বৃদ্ধ স্বামী সুরহাব আলী।

শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুরহাব আলী। একসময় কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বয়সের কারণে এখন আর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। সংসারে সম্বল বলতে মাত্র সাত শতাংশ জমি। জীবিকার তাগিদে তাই ভিক্ষা করতে হয় তাঁকে। ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে দুজনের খাবার ও সংসার।

সুরহাব আলীর প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন ২২ বছর আগে। এরপর ময়না বিবিকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ২১ বছর পেরিয়েছে। সংসারে চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তবে বার্ধক্য ও অসুস্থতার এই সময়ে স্ত্রীর দেখাশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তিনি।

৭৭ বছর বয়সী ময়না বিবি গত ছয়-সাত বছর ধরে অসুস্থ। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। দৈনন্দিন কাজকর্মও করতে হয় অন্যের সহযোগিতায়। স্ত্রীর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা সবই সামলাতে হয় সুরহাব আলীকে। নিজের শরীরেও বয়সের ভার, তবু স্ত্রীর সেবায় কোনো অবহেলা নেই তাঁর।

সুরহাব আলী জানান, বয়সের কারণে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালান। অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনাও তাঁকেই করতে হয়। অভাবের সংসারে প্রতিটি দিন কাটে নানা কষ্টে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। বয়স ও অসুস্থতার কারণে তাঁদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, অসুস্থ ময়না বিবির চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং সুরহাব আলীকে পুনর্বাসনের আওতায় তাকে একটি দোকান করে দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।