যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

রাজশাহীতে শিল্পপার্ক হলে বাড়বে কর্মসংস্থান : চেম্বার অব কমার্স সভাপতি

যমুনা প্রতিদিন ডেস্ক : প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

মো. হাসেন আলী রাজশাহী অঞ্চলের একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী নেতা, কৃষিশিল্প উদ্যোক্তা ও হাসেন জুট মিলের মালিক। তিনি বর্তমানে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজশাহীর ব্যবসাবাণিজ্য, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত।

রাজশাহীর ব্যবসাবাণিজ্য ও শিল্প খাত বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ সুদে ব্যাংকঋণ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ভারতের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা এবং শিল্প স্থাপনের উপযোগী জমির অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, পাটশিল্পে নীতিগত সহায়তা এবং রাজশাহীতে পরিকল্পিত শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা জরুরি। এতে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসেন আলী এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

হাসেন আলী বলেন, কৃষক না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে উৎপাদনে আগ্রহ হারাবেন। তাই কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষকদের জন্য সরকারের ৩ হাজার কোটি টাকার উদ্যোগের মধ্যে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দের বিষয়টি কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজশাহীর শিল্প পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে শিল্পকারখানার সংখ্যা তুলনামূলক কম। মাত্র ছয়টি পাটকল রয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক পাটকল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কোনো কোনোটি বন্ধও রয়েছে। ভারত সরকার তাদের পাটশিল্পকে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। সেখানে ব্যাংকঋণের সুদের হার কম হলেও বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হচ্ছে।

এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাসেন আলী বলেন, একসময় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি হতো। বর্তমানে তা কমে ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের শক্তিশালী অবস্থান এবং দেশীয় নীতিগত সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণ। তবে কাঁচা পাট আমদানি বন্ধে সরকারের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, পাটশিল্পে দেশীয় কাঁচামাল ও শ্রমশক্তি ব্যবহার করে অধিক মূল্য সংযোজন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। তৈরি পোশাকশিল্পে আমদানি করা কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা থাকলেও পাটশিল্পে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার বেশি। তাই এ শিল্পকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া উচিত। পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে রাজশাহীর শিল্পের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি।

রাজশাহীতে শিল্প স্থাপনের বড় বাধা জমির সংকট উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসিক শিল্পনগরী-১ ও ২-এ বড় শিল্পকারখানা স্থাপনের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বড় উদ্যোক্তাদের ২৫ থেকে ৩০ বিঘা বা তারও বেশি জমি প্রয়োজন হয়। দেশি-বিদেশি, এমনকি চীনা উদ্যোক্তারাও রাজশাহীতে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী। কিন্তু জমি ও অবকাঠামোর অভাবে তাঁদের বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তাঁর মতে, রাজশাহীতে পরিকল্পিত শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তাঁর কারখানা একসময় তিন শিফটে চলত, প্রতি শিফটে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হতো। বর্তমানে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। কারখানাটিতে প্রায় ২৫০টি মেশিন রয়েছে।

তিনি বলেন, পাটশিল্পের জন্য বাস্তবসম্মত নীতিমালা, কম সুদে ঋণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানিতে সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়িয়েছে। তাই শিল্পের সামগ্রিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি ও অর্থায়ন খরচের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী শাহেদ