যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মোংলা, ঘুর দাড়াবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে গ্রহণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এক বড় মেগা প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয়বারের মতো ঐতিহাসিক মোংলা বন্দর সফরকে ঘিরে বন্দরজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ, তৈরি হয়েছে এক নতুন আশার আলো। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সম্পন্ন হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি, জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা-এই সফরের মাধ্যমে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন নতুন পরিকল্পনা এবং গতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

কাল ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় এক বর্ণাঢ্য ও জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর জেটির বিদ্যমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বন্দরের অগ্রগতির ধারা আরও জোরদার করতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’ (সিআরসিসি)-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সমঝোতা স্মারক ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে স্থানীয় এবং দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হওয়ারও কথা রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত এই প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রকল্পের মূল আকর্ষণসমূহ হলো-দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি নির্মাণ। সরাসরি আন্তর্জাতিক মাদার ভেসেল ভেড়ানোর উপযোগী দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটি তৈরি করা। কন্টেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, হাজার হাজার কন্টেইনার সংরক্ষণের সুবিধার্থে সুবিশাল ও আধুনিক কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, দ্রুততম সময়ে কন্টেইনার খালাস ও লোড করার জন্য অত্যাধুনিক ‘কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্রেন’ ও পর্যাপ্ত ভারী সরঞ্জাম সংযোজন। তাও এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর এবং মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মোংলা বন্দরের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে। ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৪ লক্ষ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডিলিং করা সম্ভব হবে।

এছাড়া মোংলা বন্দরের কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডিলিং সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বন্দরে জাহাজের জট কমবে, ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। আমরা আশা করছি, বাস্তবায়নের পর মোংলা বন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ট্রানজিট হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের যেকোনো উন্নয়ন কাজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোংলা সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ সুন্দরবন ও মোংলা অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ঠিক রেখে কীভাবে একটি আধুনিক ও গ্রিন পোর্ট গড়ে তোলা যায় সেদিকে আমাদের পূর্ণ নজর রয়েছে। এই মেগা প্রকল্প কেবল ব্যবসায়িক লাভই আনবে না, বরং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারে মোংলা বন্দর বিশ্বের দরবারে একটি মডেল গ্রিন পোর্ট হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

বন্দর ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নতুন আশা প্রকাশ করে বলেন, মোংলা বন্দরের এই বড় ধরনের রূপান্তরকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বসিত বন্দর ব্যবহারকারী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানি-রফতানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তারা মনে করছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই মোংলা বন্দরের প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের পরিপূরক হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও মেগা প্রকল্পের শুভ সূচনার মাধ্যমে মোংলা বন্দর দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।