২৬ মাস পর নিজের চেয়ার ফিরে পেলেন ভবানীগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ

দীর্ঘ ২৬ মাস ১৩ দিন পর রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ পদে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. হাতেম আলী।
পদত্যাগে বাধ্য করা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তিনি নিজ পদে ফিরলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট কলেজে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা ‘মব সৃষ্টি’ করে অধ্যক্ষ হাতেম আলীকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বাইরে ছিলেন।
এই দীর্ঘ সময়ে কয়েক দফায় তাঁর দায়িত্বে ফেরার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে চিঠি ইস্যু করা হলেও স্থানীয় ও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতায় তাঁর যোগদান সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে কলেজের রুটিন দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে পালন করেন তিনজন শিক্ষক—আব্দুস সাত্তার সরদার, রমজান আলী ও বেলাল হোসেন।
অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে সম্পূর্ণ দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে কলেজের মূল দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত চিঠি জারি করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বভার বুঝে নেন।
দীর্ঘ বিরতির পর অধ্যক্ষের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তাঁর যোগদানের মধ্য দিয়ে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে পুনরায় গতিশীলতা এবং স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যক্ষ হাতেম আলী বলেন, “একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে আমাকে অন্যায়ভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে সত্য উন্মোচিত হয়েছে এবং আমাকে সসম্মানে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সকল শিক্ষক-কর্মচারীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমি বদ্ধপরিকর।”
