কাজিপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

কাজিপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের (৪র্থ ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নাসির উদ্দিন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আব্দুস সবুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ পারভীন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা জাহান সুমাইয়া, কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিনিধি ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও নবীন শিক্ষার্থীরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ পারভীন বলেন, আমাদের চেষ্টায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে। উন্নত বিশ্বে কারিগরি কিংবা একটি নির্দিষ্ট পেশাকে টার্গেট করে যে ভোকেশনাল শিক্ষা, সেটাকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।
তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষায় একজন শিক্ষার্থীর একটি ক্লাসের ওপরে কাজ করতে করতে ২৫-২৬ বছর চলে যায়। এরপর চাকরির পেছনে ঘুরতে ঘুরতে আরও ৪-৫ বছর চলে যায়, তখন বয়স ৩০-৩২ হয়ে যায়। কিন্তু কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের পেশা আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে যায়। তারা হাতে-কলমে কাজ শিখবে এবং সেই সেক্টরেই কাজ করবে। এটা তাদের জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, তোমাদের সামনে ২০২৬-২৭ এই দুই বছর থাকবে এবং পরবর্তীতে তোমাদের আরও উচ্চতর শিক্ষা রয়েছে। এই সময়টাই শিক্ষার্থীদের জন্য গোল্ডেন টাইম এবং সবচেয়ে উপযোগী সময়। এই সময়ে ক্যারিয়ার নিয়ে প্ল্যানিং করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় একজন একটা পাশ করে সবার দেখাদেখি পরেরটায় গেলাম। কিন্তু আমি আসলে আমার গোল কি, সেটা জানি না। অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই এই সমস্যাটা আছে। তাই এখন থেকেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করে পড়াশোনা করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ আব্দুস সবুর বলেন, তোমরা টেক্সটাইল বেছে নিয়ে ভালো কাজ করেছো। তোমাদের চাকরির বাজার উন্মুক্ত।
তিনি বলেন, টেক্সটাইল সেক্টরে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা অনেক বেশি। যারা ভালোভাবে শিখবে, তাদের চীনসহ দেশ-বিদেশে চাকরি হবে। চীন দেশে টেক্সটাইল খাতে তারা খুব ভালো করতে পারবে, সেখানেই তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি সচিব হয়ে শেষের দিকে বেতন পাব ৭৮ হাজার টাকা, আর তোমাদের চাকরির শুরুতেই বেতন হবে সমপরিমাণ।
তিনি বলেন, টেক্সটাইল সেক্টরে দক্ষদের বেতন অনেক বেশি। তাই মন দিয়ে পড়াশোনা করলে চাকরির শুরু থেকেই ভালো বেতনে চাকরি পাওয়া যাবে। তোমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছো, এটা তোমাদের জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, ইনস্টিটিউটকে অত্যাধুনিক করার কাজ চলছে। চীনের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী যে সব আধুনিক যন্ত্রপাতি দরকার, সে বিষয়ে চিঠিপত্র লেখা হয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই সব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ইনস্টিটিউটে এসে পৌঁছাবে। শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই হাতে-কলমে কাজ শিখবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রতিটি ইনস্টিটিউট থেকে একজন করে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হবে। যিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হবেন, তাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে। বর্তমানে দেশে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট আছে ৫৫টি। এর মধ্যে ৪৫টি চলমান রয়েছে, বাকি ১০টির কাজ চলছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সবগুলো ইনস্টিটিউট চালু হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ড. মোঃ আব্দুস সবুর ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ল্যাব পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন।
