যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

রাজশাহীতে ক্ষুধার্ত কুকুরের অকৃত্রিম বন্ধু ‘কাজল রেখা’: মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

ক্লান্তিহীন এক জীবনযুদ্ধ, তার মাঝেও প্রতিদিনের ছকবাঁধা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ—রাস্তার অবলা প্রাণীদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া।

রাজশাহীর সপুরা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাজল রেখা আজ এক পরিচিত ও ভালোবাসার নাম। নিজের জীবনে শত অভাব-অনটন ও প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও, তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে তিনবেলা রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করে চলেছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মমত্ববোধ পুরো সমাজকে এক মানবিকতার বার্তা দিচ্ছে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সপুরা এলাকায় কাজল রেখাকে চেনেন না এমন মানুষ কমই আছে। নিজের জীবনের দুঃখ-কষ্ট বা টানাটানির সংসার কোনো কিছুই তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিদিন সকাল, দুপুর আর রাতে নিজ হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন সপুরার অলিগলিতে। কাজল রেখার ডাক পেলেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে একদল ক্ষুধার্ত কুকুর। তাদের প্রতি কাজল রেখার এই যত্ন ও আগলে রাখার দৃশ্য প্রতিনিয়ত সেখানে উপস্থিত পথচারীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

সচরাচর সমাজের অবহেলিত ও তাচ্ছিল্যের শিকার হওয়া এই অবলা প্রাণীগুলোর প্রতি কাজল রেখার যে বাঁধভাঙা টান, তা কেবল কোনো খাবারের সম্পর্কে সীমাবদ্ধ নেই। অসুস্থ হলে সেবা করা, শীত বা বৃষ্টিতে ওদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করা—সবক্ষেত্রেই তিনি এক মাতৃত্বের ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছেন। অবলা প্রাণীগুলোও তাঁর উপস্থিতি টের পেলেই আনন্দে লেজ নেড়ে চারপাশ ঘিরে ধরে।

আজকের এই ব্যস্ত ও স্বার্থপরতার সমাজে কাজল রেখার এমন মানবিক রূপ সত্যিই বিরল এবং গভীর অনুপ্রেরণাদায়ক। কাজল রেখা প্রমাণ করেছেন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা প্রকাশে অনেক বেশি ধন-সম্পদের প্রয়োজন হয় না; কেবল একটি বড় মন ও মানবিক বোধই যথেষ্ট। তাঁর এই উদ্যোগ সপুরা এলাকা ছাড়িয়ে পুরো রাজশাহী শহরের মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “কাজল রেখা আপা যে কাজ করছেন, তা আমরা অনেকেই চিন্তা করতে পারি না। শত কষ্টের মধ্যেও তিনি যেভাবে কুকুরগুলোকে ভালোবাসেন ও খাবার দেন, তা আমাদের শেখায় কীভাবে সব প্রাণীর প্রতি সহমর্মী হতে হয়।”

​কাজল রেখার এই মানবিক কাজ আমাদের সমাজের জন্য এক দারুণ উদাহরণ। তাঁর এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগ অবলা প্রাণীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে এবং একটি প্রাণীবান্ধব ও সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনে বড় অবদান রাখবে