প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয় থেকে দেশসেরার স্বীকৃতি, ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনন্য গল্প

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সাধারণ একটি গ্রামীণ বিদ্যালয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশজুড়ে পরিচিত। বিদ্যালয়টির ব্যতিক্রমী শিক্ষা পরিবেশ ও সৃজনশীল কার্যক্রম দেখতে সম্প্রতি সেখানে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার শিবপুর শিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম।
বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা, সৃজনশীল শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষকদের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তার লেখায় উঠে আসে, বিদ্যালয়টিতে দিনের প্রাথমিক কার্যক্রম, দৈনিক সমাবেশ ও পাঠদানসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ও আনন্দের সমন্বয় রয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুনের নেতৃত্বে শিক্ষকরা শিশুদের আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষাদানের পরিবেশ তৈরি করেছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ৯ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন শিক্ষিকা ও দুজন শিক্ষক।
ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২২। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম বিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।
বিদ্যালয়টির সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। একসময় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা একটি ভবনকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সৃজনশীলতায় নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেটি প্রতীকী রেলস্টেশনের আদলে সাজানো, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কলকাকলি স্টেশন’। সেখানে ট্রেনের সিটের আদলে তৈরি বেঞ্চে বসেই শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করে।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষও সাজানো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় ও কল্পনাশক্তিকে কেন্দ্র করে। কোথাও রংধনু ও প্রজাপতির সাজ, কোথাও সৌরজগতের চিত্র, আবার কোথাও শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে।
পরিদর্শন শেষে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, একটি প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ বিদ্যালয় কীভাবে সৃজনশীল উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশসেরার স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে, ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তার অনন্য উদাহরণ।
শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় ও সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বিদ্যালয়টির সাফল্যের এই পথচলা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
