যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

ফেসবুকে জিনের চিকিৎসার নামে প্রতারণা, ভণ্ড কবিরাজ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

​রাজশাহীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘জিনের মাধ্যমে দাম্পত্য সমস্যা সমাধান’ করার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে।

​গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম তপু আকুন্জি (৪৮)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার ইসলামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৫ মে) র‍্যাব-১৪ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) একটি যৌথ দল কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

​পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী শ্যামলী আক্তার মৌসুমী (৩২) দাম্পত্য কলহের কারণে স্বামীর থেকে আলাদা বসবাস করছিলেন। গত ১ এপ্রিল ফেসবুকে “মাওলানা আব্দুর সিদ্দিকুর রহমান” নামের একটি পেজে ‘আধ্যাত্মিক উপায়ে দাম্পত্য সমস্যা সমাধানের’ বিজ্ঞাপন দেখে তিনি যোগাযোগ করেন। প্রতারক চক্রটি তাকে জিনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আস্থা অর্জন করে। এরপর কৌশলে তার ব্যক্তিগত তথ্য এবং কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে নেয়।

​তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতারকরা শুরুতেই ‘নূর জাহান পাথর’, ‘দাফনের কাপড়’ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী কেনার অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নিতে থাকে। একপর্যায়ে গত এপ্রিল মাসে তাকে রাজশাহীর মেহেরচণ্ডি ফ্লাইওভার এলাকায় ডাকা হয়। সেখানে চক্রের এক সদস্যের কাছে তিনি ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন। সব মিলিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও সরাসরি লেনদেনের মাধ্যমে ওই নারীর কাছ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

​টাকা নেওয়ার পরও প্রতারক চক্রটি ক্ষান্ত হয়নি। তারা ভুক্তভোগীর কাছে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এই টাকা না দিলে তার ব্যক্তিগত ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অশ্লীলভাবে বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। উপায়ান্তর না দেখে গত ১৯ এপ্রিল চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

​অভিযোগ পাওয়ার পরপরই চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মামলা রুজু করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই মাসুদ রানাকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হন যে, মূল হোতা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার জাফরাবাদ এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর র‍্যাব-১৪ এর সহায়তায় সেখানে অভিযান চালিয়ে তপু আকুন্জিকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়।

​চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন,​”গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”