যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

চাঁদাবাজির পর গণপিটুনি, পুলিশ হেফাজতে সন্দেহভাজনের মৃত্যু

নাহিন খান, ঢাকা : প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ এএম

রাজধানীর আদাবরে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সময় গণপিটুনির শিকার হয়ে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ জাহিদ (৩৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার ২৭ জুন রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার, লালমোহন উপজেলার, মহেশখালী গ্রামে। তার বাবার নাম জয়নাল মিয়া। বর্তমানে শ্যামলী হাউজিং ২য় প্রকল্প এলাকার ফার্ম গলিতে থাকতেন।

আদাবর থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) ইয়ামিন সরকার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে আদাবরের সুনিবিড় হাউজিং এলাকার একটি বাসায় ধারালো চাপাতি নিয়ে প্রবেশ করেন জাহিদ। সেখানে খোরশেদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি জোরপূর্বক আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় জনগন টের পেয়ে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরবর্তীতে আমাদের খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। তবে আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার আগেই তিনি পুনরায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকালের দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ রাত সাড়ে দশটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, নিহত জাহিদ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে। গত ১৬ জুন আদাবরের শেখেরটেকে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং অভিযানে যাওয়া পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি ছিলেন তিনি।

জাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গণপিটুনি ও হেফাজতে মৃত্যুর এই পুরো বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।