যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

পবিপ্রবিতে ভিসি অপসারণ দাবির কর্মসূচিতে হামলা-হাতাহাতি, আহত ১০

দুমকি উপজেলা প্রতিনিধি : প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন এবং কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভিসির অপসারণ দাবি এবং প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ভিসির সমর্থনে শতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বহিষ্কৃত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিপন শরীফের নেতৃত্বে আসা বহিরাগতরা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ না পৌঁছানোর অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

পরবর্তীতে একই দাবিতে এবং বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল।

বিক্ষোভকারীরা টিএসসি চত্বর থেকে মিছিল বের করে প্রশাসনিক ভবনের সামনের সড়ক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে বাউফল-দুমকি-বরিশাল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কুচক্রী মহল আমাকে দীর্ঘদিন যাবত জামাতি ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করছে। আমাকে পরিবর্তন করে কেউ কেউ ভিসি হওয়ার ইচ্ছায় ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল দেখানোর পায়তারা করছে। প্রক্টর এবং ফান্ড সুপার নোমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলামগুলো থেকে আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে যাবতীয় হিসাব আমার কাছে জমা দিতে বলেছিলাম রেজিষ্ট্রারের মাধ্যমে, যেটা তাদের পছন্দ হয়নি। এছাড়া প্রক্টরের নেতৃত্বে জুলাই আগস্ট কর্নারের একটা অংশ তারা নষ্ট করে ফেলেছে, আমি সেজন্যভতাদের শোকজ করেছি। তাদের সাথে আরও কিছু কর্মকর্তা আছে যেমন শহীদ মৃধা তার সন্তানকে, নান্টু তার অবৈধ চাকরি, প্রফেসর জামাল হোসেন তার স্ত্রীকে চাকরি দিতে আমাকে বাধ্য করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় তারা গত ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পর থেকেই আমার পেছনে লেগে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।