যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

মান্দায় জোতবাজার বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

যমুনা প্রতিদিন ডেস্ক প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

সদস্যদের সমিতির হিসেব দেখাতে গড়িমসি সভাপতি-সম্পাদকের “জোতবাজার বণিক সমবায় সমিতি লিঃ”

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার “জোতবাজার বণিক সমবায় সমিতি লিঃ’-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪২ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সমিতির সাধারণ সদস্যদের অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে ইতোমধ্যে জেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হরেন, জোতবাজার বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম (বাদশা) ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ সম্রাট।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে নিবন্ধিত এই সমবায় সমিতিটি দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান এই সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ সদস্যরা।

​সদস্যদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, সমিতির বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন ও নিয়মের বাইরে গিয়ে গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ সালের এই অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৪২ লাখ টাকার মনগড়া খরচ দেখানো হয়েছে।
এই বিশাল অংকের খরচের বিপরীতে কোনো ভাউচার বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারিনি কমিটি। পাশাপাশি, সমিতির রিজার্ভ তহবিল, সদস্য ভর্তি ফি এবং খেলাপি ঋণের অবন্টিত মুনাফাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের হিসাবও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সাধারণ সদস্যরা বারবার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব দেখতে চাইলেও কমিটি নানা টালবাহানা করছে এবং হিসাব দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।​ অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছেন সাধারণ সদস্যরা। সমিতির সদস্য মো. ফজলুল বারী সাফি, মো. সাইদুর রহমান, মো. এনামুল হক, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. জাহিদ হোসেন শাহ, রীতা রানী,বনিতা রানীসহ ভুক্তভোগী সাধারণ সদস্যরা অবিলম্বে এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

​সমিতির ফান্ড ও বিভিন্ন খাতের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা উদঘাটন করে এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁরা উপজেলা ও জেলা সমবায় কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলুর বারী সাফী বলেন, বর্তমান কমিটির হিসেব সিটে আমরা গরমিল পেয়েছি। তাদেরকে বারবার বলার পরও কমিটির সদস্যদের তারা কোন হিসেব দেখায়নি। এরপর আমরা জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিসে অভিযোগ দিয়েছি।

সদস্য সাইদুর রহমান বলেন,হিসাবে গড়মিল দেখে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জনসম্মুখে হিসাব দিতে বলেছি। তারা হিসাব দিতে টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করছে।এজন্য বাধ্য হয়ে উপজেলা ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সমবায় দপ্তরে অভিযোগ জমা দেওয়ার ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় সঠিক তদন্ত নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমিতির অন্য সদস্যরা।

সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম বাদশা ও আব্দুল মজিদ সম্রাট বলেন, সামনে সমিতির নির্বাচন তাই একটা পক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে। আমরা তাদেরকে কোন হিসেব দিবোনা। উপজেলা সমবায় অফিস তদন্ত করলে আমরা তাদেরকে হিসেব বুঝিয়ে দিবো। এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই। সমিতির সদস্যদের হিসেব চাওয়ার অধিকার আছে কিনা এমন প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর দেননি তারা।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল্লা-হিল আবির বলেন, জোতবাজার বণিক সমিতির লিঃ এর একটি অভিযোগ পেয়েছি। অচিরেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমবায় দিবসের পরে এর তদন্ত শুরু হবে।