যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

সিংড়ায় বালুবাহী ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

নাটোরের সিংড়ায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আলো ও ইন্ডিকেটরবিহীন বালুবাহী ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেল্লাল নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর ট্রলিটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে সিংড়া উপজেলার ফরিদনগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের দুদু মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর সিদ্দিক মোটরসাইকেলযোগে বগুড়া থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার দরি মহিষমারি গ্রামে এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। পথে ফরিদনগর এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুবাহী ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিটকে সড়কে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই আবু বক্কর সিদ্দিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বেল্লাল নামে অপর একজন আহত হন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের পাশে আগের দিন ট্রাকে করে বালু এনে রাখা হয়েছিল। পরে ওই বালু ট্রলির মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছিল। বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রলিটিতে পর্যাপ্ত আলো ও ইন্ডিকেটর ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, সন্ধ্যার অন্ধকারে ট্রলিটি স্পষ্টভাবে দেখতে না পাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বালু সোয়াইর গ্রামের অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বলে জানা গেছে,নাম পরিচয় এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর ট্রলিটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে ফরিদনগর সড়কের বেরিকেডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ট্রলি ও মোটরসাইকেলটি হেফাজতে নেয়। নিহতের মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে বালু ফেলে রাখায় ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে বসন্তপুর, সোয়াইর ও কয়াপাড়া এলাকার মানুষ জামতলী বাজার ও রনবাঘা বাজারে যাতায়াতের সময় অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও মোটরসাইকেল নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। সড়কের পাশে বালু রাখার কারণে যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের পাশে বালু রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া ট্রলি চলাচল বন্ধ করা এবং সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।