গাজীপুরে ঐতিহ্যের স্মারক ভাওয়াল রাজবাড়ীর দীঘি এখন ময়লার ভাগাড়: দ্রুত পরিচ্ছন্ন ও খননের দাবি

গাজীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের পশ্চিম সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী দীঘিটি এখন চরম অবহেলা ও তদারকির অভাবে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
প্রাচীন ইতিহাসের ধারক এই জলাশয়টির পানি এখন আর স্বাভাবিক নেই; ঘন কচুড়িপানার পাশাপাশি তা ছেয়ে গেছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, ওয়ান-টাইম গ্লাস, কাপ ও প্লেটের মতো অজস্র ভাসমান বর্জ্যে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ভাওয়াল রাজবাড়ীর মূল ভবনটি বর্তমানে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও জেলা সুপ্রীম কোর্ট কমপ্লেক্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজবাড়ী প্রতিষ্ঠার সময় (আনুমানিক ১৯ শতকে) রাজপরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটানো এবং প্রাসাদের সার্বিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই বিশাল দীঘিটি খনন করা হয়েছিল। ইতিহাসখ্যাত ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা ও তৎকালীন রাজত্বকালের বহু ঘটনার নীরব সাক্ষী রাজবাড়ীর পশ্চিম পাশের এই ঐতিহাসিক দীঘি ও এর ইট বাঁধানো ঘাট।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী এই দীঘির উপরিভাগজুড়ে ঘন কচুড়িপানার আস্তরণ তৈরি হয়েছে। এর ওপর যত্রতত্র ভেসে আছে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও ওয়ান-টাইম থালা-বাসন। দীঘির একপাশে ইট দিয়ে বাঁধানো প্রাচীন ঘাট এবং চারপাশের সবুজে ঘেরা গাছপালা মিলে একসময় এর যে নান্দনিক রূপ ছিল, নিয়মিত তদারকির অভাবে তা এখন ম্লান হতে বসেছে।
দীঘিটির এমন অবর্ণনীয় অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবেশবিদ খোরশেদ আলম বলেন, “গাজীপুর জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনের পাশেই ভাওয়াল রাজবাড়ী দীঘি। এত পাশে হওয়ার পরও দীঘির অবস্থা করুণ। আশেপাশের সকল ময়লা নিয়মিত দীঘিতে ফেলার কারণে বর্তমানে এটি একপ্রকার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে দীঘির অবস্থা বর্তমানে অবর্ণনীয়। জলাশয়ের কচুরিপানা ও ময়লা পরিষ্কার এবং খনন কাজ করে দীঘির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।”
পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ভাওয়াল রাজবাড়ীর দীঘিটি রক্ষা করতে অবিলম্বে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও খনন অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জলাশয়টিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং এর স্থায়ী সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে এটি ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি শহরের অন্যতম বিনোদন স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
