বগুড়ায় ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, নেপথ্যে পরকীয়া দ্বন্দ্ব

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বগুড়ার শিবগঞ্জে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার বিহার ইউনিয়নের সংসারদিঘী দোবিলা গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেত থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম শাহ আলম (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের ইদ্রিস আলী প্রামাণিকের ছেলে এবং পেশায় একজন ঢালাই শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী পেস্তা বেগমের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। তবে বেশ কিছু দিন ধরে পেস্তা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল জব্বার নামের এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযুক্ত জব্বার এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারার পর থেকে শাহ আলমের সংসারে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রেমিক জব্বারের প্ররোচনায় শাহ আলমকে ডিভোর্স দিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘর ছাড়েন পেস্তা বেগম। এরপর মায়ের অনুপস্থিতিতে সন্তান দুটি নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তবে সন্তানদের কথা চিন্তা করে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় মাতব্বরদের শরণাপন্ন হয়েছিলেন শাহ আলম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জব্বার তাঁকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় পরকীয়া প্রেমিক জব্বার ও তাঁর সহযোগীরা শাহ আলমকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতে নিয়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান তাঁরা। আজ সকাল ১১টার দিকে প্রতিবেশীরা হাঁস তাড়াতে গিয়ে ধানক্ষেতের মাঝে শাহ আলমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত জব্বারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ক্লু উদঘাটনে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) যৌথভাবে কাজ করছে। নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত আব্দুল জব্বার ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। দ্রুতই তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
