গলাচিপায় ড্রেন বন্ধ করে ভবন নির্মাণ, পানিবন্দী অর্ধশত পরিবার

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রতনপুর পাঁচখালি গ্রামে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক নালা (ড্রেন) বন্ধ করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
অমল কৃষ্ণ পাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা এই অনিয়মের কারণে গত কয়েক মাস ধরে এলাকার প্রায় অর্ধশত পরিবার চরম জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অমল কৃষ্ণ পাল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটি সরকারি পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের মুখ বন্ধ করে সেখানে দোতলা পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন। ভবন নির্মাণের সময় এলাকাবাসী বাধা দিলেও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি। উল্টো প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগে ওই ড্রেন দিয়ে এলাকার বৃষ্টির পানি ও গৃহস্থালি বর্জ্য স্বাভাবিকভাবে নেমে যেত। কিন্তু ড্রেনটি পুরোপুরি ভরাট করে ভবন তোলায় এখন পানি সরার কোনো পথ নেই। এতে রতনপুর গ্রামের পূর্ব পাশের বাড়িঘর, চলাচলের রাস্তা ও আঙিনায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দূষিত পানির দুর্গন্ধে ছড়াচ্ছে রোগবালাই, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
এলাকাবাসী আরও জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শিশু ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে অমল কৃষ্ণ পাল ও তার ছেলে শান্ত পাল ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পৌরসভার কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করেছেন। এমনকি সরকারি জমি দখল করে ভবন তোলার সময় টিঅ্যান্ডটি অফিসের কর্মীরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজার মো. ইজাজুল হক বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনদুর্ভোগ নিরসনে এবং পানি নিষ্কাশনের পথটি পুনরায় উন্মুক্ত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রতনপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা।
