অশ্রুভরা চোখে চিরবিদায়: দিনাজপুরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমর দাসের স্ত্রী সুমনা দাসের শেষকৃত্য সম্পন্ন

দিনাজপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমর দাসের স্ত্রী সুমনা দাস
আপেল মাহমুদ,যমুনা ডেস্ক: দিনাজপুর শহরের রামনগর নিবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী সমর দাসের সহধর্মিণী সুমনা দাসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে শহরের কেন্দ্রীয় ফুলতলা শ্মশানঘাটে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। প্রিয়জনদের অশ্রুসিক্ত বিদায় ও স্বজনদের শোকাতুর উপস্থিতিতে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া থেকে তাঁর বড় মেয়ে সুদিপ্তা দাস দিনাজপুরে পৌঁছালে নিজ বাসভবনে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাকে শেষবারের মতো দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। তাঁদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে শেষ বিদায় জানান।
এ সময় সুমনা দাসের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন দিনাজপুর বাসুনিয়াপট্টি শ্রী শ্রী হরিসভা কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিত্ত ঘোষের নেতৃত্বে কমিটির অন্যান্য সদস্য, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চক্রবর্তী তপনের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা এবং দৈনিক আজকের দেশবার্তা পরিবার।
পরে নিজ বাসভবন থেকে শবযাত্রার মাধ্যমে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শহরের রায়সাহেববাড়ী কেন্দ্রীয় বাবা লোকনাথ মন্দিরে। সেখানে মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় ফুলতলা শ্মশানঘাটে। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ছেলে সৌরভ দাস মায়ের মুখাগ্নি করেন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় দিনাজপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সদা হাস্যোজ্জ্বল সুমনা দাস গত ২৭ অক্টোবর নিজ বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে দিনাজপুর শহরের চেকআপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৩৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী সমর দাস, দুই মেয়ে সুদিপ্তা দাস ও সাগতা শুভ দাস, ছেলে সৌরভ দাস এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
