ঈশ্বরদীতে রোসাটমের সহায়তায় প্রথম জাতীয় ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির সম্ভাবনা, নিরাপত্তা এবং এ খাতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ডায়ালগ: ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০’।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঈশ্বরদীর ‘পাবলিক ইনফরমেশন সেন্টার অন নিউক্লিয়ার’-এ রোসাটম স্টেট করপোরেশন ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল-ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০’-এর অংশীদারত্বে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মানবসম্পদবিষয়ক উপ-প্রকল্প পরিচালক ওলগা ভিশনেভস্কায়া।
মূল আলোচক ছিলেন রোসাটমের মহাপরিচালকের আন্তর্জাতিক যুব উপদেষ্টা পরিষদের বাংলাদেশি সদস্য ও এনপিসিবিএলের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার প্রমোদ চন্দ্র বৈদ্য।
সঞ্চালনা করেন পাবলিক ইনফরমেশন সেন্টার অন নিউক্লিয়ারের প্রজেক্ট ম্যানেজার আশিক হায়দার।
এতে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও রোসাটমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় পারমাণবিক খাতে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের অভাব, বিশেষায়িত শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সীমিত সুযোগসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষায়িত কোর্স, বৃত্তি, গবেষণা অনুদান, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ‘নিউক্লিয়ার ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, ‘নিউক্লিয়ার ইয়ুথ ফেলোশিপ’, ইয়ুথ ক্লাব, বিজ্ঞান ক্যাম্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক অ্যাম্বাসেডর কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আলোচনায় পারমাণবিক নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, সংলাপের ফলাফল ও সুপারিশগুলো রোসাটমের মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-৩১-এ এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। এ উদ্যোগ বাংলাদেশের পারমাণবিক খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
