নিয়ামতপুরে ২০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ১৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের কাজে বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের মাটি ও ইটের গুড়ো ও টুকরো ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীকে অর্থের প্রলোভন দেখানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ‘আগে থেকেই নিষেধ করার’ দাবি করলেও, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-জনগণ বাধা না দিলে কি তবে এভাবেই নিম্নমানের কাজ শেষ হয়ে যেত?
উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজার থেকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বরিয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটির দুই পাশ প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স খাইরুল কবির রানা এন্টারপ্রাইজ’।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মানুযায়ী সড়কের দুই পাশে বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও গত ২৭ অক্টোবর গভীর রাতে বালুর পরিবর্তে মাটির সঙ্গে ইটের টুকরো ও নর্দমার কাদামাটি মিশিয়ে ভরাটের চেষ্টা চালায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বাধার মুখে মাটিবোঝাই একাধিক গাড়ি পেছনে ফিরে যেতে বাধ্য হয় এবং নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
বরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিদুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব কয়েকদিনও টিকবে না।’
একই গ্রামের রাজু আহম্মেদ বলেন, কাজের সময় নিয়মানুযায়ী নিয়মিত পানি দেওয়া হয়নি। যেখানে ভালো মানের উপাদান দেওয়ার কথা, সেখানে ভাটার শক্ত মাটি ও নর্দমার ময়লা মাটি তুলে এনে ভরাট করা হচ্ছিল।
এদিকে, এই অনিয়মের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে যান এক সংবাদকর্মী। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি বালুর বদলে মাটি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখার অদ্ভুত যুক্তি দেখান। এর কিছুক্ষণ পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রতিনিধি মুঠোফোনে ওই সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে ‘অর্থের প্রস্তাব’ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে।
তিনি বালু বা মাটি ব্যবহারের দায় সরাসরি ঠিকাদারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দাবি করেন, ‘বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে কাজ হচ্ছে এমনটা নয়। অন্য সাইট থেকে দুই গাড়ি এম এম ডব্লিউ নিয়ে এসেছিল, আমি আগেই সেটা নিষেধ করেছিলাম। বাইরের মালামাল এলাও করব না, ঠিকাদার ভুল করে নিয়ে এসেছিল। ইতিমধ্যে সেই মালামালগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
তবে প্রকৌশলীর এই বক্তব্যের পর নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সচেতন মহলের প্রশ্ন-প্রকৌশলী যদি আগে থেকেই নিষেধ করে থাকেন, তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার সাহসে গভীর রাতে সেই মাটি দিয়ে কাজ করতে গেল? আর স্থানীয় জনতা যদি সেদিন রাতে রাস্তা আটকে প্রতিবাদ না জানাতো, তবে কি এই নিম্নমানের কাজ এভাবেই ধামাচাপা পড়ে যেত? তদারকি সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে গভীর রাতে এমন অনিয়ম কীভাবে সম্ভব হলো-তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে পুরো উপজেলায়।
