ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপির ছেলের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (২৩) হত্যা মামলায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (গুরুদাসপুর আমলি আদালত)-এর বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
নুরুজ্জামান মিন্টু গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। শাকিল হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার জন্য তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিকালে মিন্টুর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। এ সময় তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার(২৬ অক্টোবর) রাতে গুরুদাসপুরে নিজ বাসভবন থেকে নুরুজ্জামান মিন্টুকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালতের রিমান্ড আদেশের পর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, ঘটনায় অন্যদের সম্পৃক্ততা এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রায় ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে হামলার কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদালতের রিমান্ড আদেশের পর মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
