মান্দায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার প্রসাদপুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ২জনের নাম উল্লেখ করে মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী হলেন, উপজেলার কামারকুড়ি গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সহিদুল ইসলাম। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন,একই গ্রামের মৃত আক্তার হামিদ সোনারের ছেলে মতিউর রহমান (৩২) ও দেলোয়ার হোসেন (৩৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারকুড়ি মৌজার ১৫৯ নম্বর খতিয়ানের ৭৩২ দাগের ২০ শতাংশ জমি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি ক্রয় করার পর থেকে আজ অবধি ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলামই তা ভোগদখল করে আসছেন এবং সেখানে মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বিবাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির একপাশ দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা বের করার পাঁয়তারা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে বিবাদীরা ওই জমিতে রোপণ করা প্রায় ৫৫টি মেহগনি ও অন্যান্য প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলে। এর আগেও তারা একই ধরনের ক্ষতিসাধন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, “বিবাদীরা আমার ক্রয়কৃত জমির দাতা বা গ্রহীতা কোনোটিই নয়। তারা অন্যায়ভাবে আমার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার দাবি করে আসছে। রাস্তা না দেওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় আমার ওপর অত্যাচার করছে। ইতিপূর্বেও তারা রাতের অন্ধকারে আমার দোকানঘরের দেয়াল ভেঙে রাস্তা বের করার চেষ্টা করেছিল। সেখানে ব্যর্থ হয়ে এবার তারা আমার রোপণ করা গাছগুলো কেটে ফেলেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মতিউর রহমান গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমার জমিতে রোপণ করা গাছ কে বা কারা কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। সহিদুল ইসলাম মূলত জাল দলিল করে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এই নিয়ে নওগাঁ আমলি আদালতে একটি মামলাও চলমান আছে। আমাদের হেনস্তা করতেই বারবার এমন মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমরা কোনো গাছ কাটিনি।”
অভিযোগের বিষয়ে মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
