সেনা সদস্য হত্যাকাণ্ড ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহর সভা

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা সদস্যের শাহাদাতের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহ। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষায় সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক বীর সদস্যের শাহাদাতের ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহর উদ্যোগে এক প্রতিবাদী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী ও উগ্র বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি শান্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহর সভাপতি ড, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
এ সময় বক্তব্য রাখেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির সভাপতি আ. জব্বার, আগ্রাসন প্রতিরোধের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন, রাষ্ট্রীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খামেনী এহসান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তারেক রহমান শাওন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের সেলিম রেজা বাচ্চু, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগীয় যুবসংগঠক মুফতি আইয়ুব আল-ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আমিন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা মিহাদুর রহমান প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীলতার পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্র বা ইন্ধন থাকলে তা চিহ্নিত করে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সুপ্রতিষ্ঠিত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংকট নিরসন এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সভা শেষে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
