বগুড়ায় ভাড়া বাসা থেকে সিংড়ার গৃহবধূ নিখোঁজ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার অভিযোগ

বগুড়ার ভাড়া বাসা থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার আমেনা খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মো. রাকিবুল হাসান (২৭) অভিযোগ করেছেন, তাদের ভাড়াবাসা থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও পোশাক নিয়ে চলে গেছেন তাঁর স্ত্রী।
এ বিষয়ে তিনি বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাকিবুল হাসানের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার ০১ নং সুকাশ ইউনিয়নের সারুপাড়া গ্রামে এবং তাঁর স্ত্রী আমেনা খাতুনের বাবার বাড়ি একই উপজেলার বাইগুনি গ্রামে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর তারিখে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা বগুড়া সদর এলাকার চক ফরিদ গ্রামের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রাকিবুল স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ি মসজিদে মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত।
লিখিত অভিযোগে রাকিবুল উল্লেখ করেন, গত ২৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি বাসা থেকে কর্মস্থলে চলে যান। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে তাঁর মা ফোন করে জানান, আমেনাকে বাসায় পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে তিনি বাসায় ফিরে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোনটি বন্ধ পান।
রাকিবুলের অভিযোগ, বাসার আলমারিতে রাখা তাঁর জমানো ২ লাখ টাকা এবং তাঁর মায়ের ঘরের ড্রয়ারে রাখা আরও ২ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও ব্যবহারের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, এসব জিনিস নিয়ে স্ত্রী বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে আমেনার দুলাভাই সাইফুল ইসলাম জানান, টাকা-পয়সা নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ এবং বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে আমেনা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে তাঁদের পরিবার অবগত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার পর আমেনার পরিবারের সদস্যরা বগুড়ায় এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় আমেনা আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হয়। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো তালাকনামা বা বিয়ের কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে দেখানো হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনার কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাকিবুল।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, স্ত্রীর সন্ধান এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বামীর অভিযোগ, যা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায় আমেনা খাতুনের বক্তব্য এবং বগুড়া সদর থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
