শাকিল হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে দলের নবীনরা আগ্রহ হারাবে : নাজমুল হোসেন নয়ন

নাটোরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও চব্বিশের গণ-আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার শিথিলতা বা আপসকামিতা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক প্রতিবাদী বার্তায় ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: নাজমুল হোসেন নয়ন বলেন, “ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হলে, ভবিষ্যতে দলের দুঃসময় এলে নবীনরা আর ছাত্রদল করার দুঃসাহস দেখাবে না।”
তিনি দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা ত্যাগী কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুবিচারের ওপর জোর দিয়ে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের মূল ইন্ধনদাতা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুর্বৃত্তরা শাকিল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয় এবং পরবর্তীতে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। দীর্ঘ ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় জেলা ডিবি পুলিশ। রিমান্ড শেষে আজ (৩০ অক্টোবর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত রাতে আরও দুজনকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
২৯ অক্টোবর বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব নিহত শাকিলের কবর জিয়ারত করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করেন। একই দিনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল শাকিলের বাড়িতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা অর্থ জোগানদাতা ও নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।
হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে এলাকায় এখনো তীব্র উত্তেজনা ও শোকের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, চব্বিশের আন্দোলনে অগ্রভাগে থাকা একজন ছাত্রনেতাকে এভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাই কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপে যেন তদন্ত বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সততা দাবি করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
