নলতা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত, পুনর্বহালের পাঁয়তারা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা মোবারকনগরস্থ নলতা আহ্ছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হলেও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের (জিবি) সভাপতির বিরুদ্ধে তা চেপে রেখে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার এবং অভিযুক্তকে পুনরায় পুনর্বহালের অপচেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকুরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর ১৭ (ঘ) ধারার ০৩ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিধি লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন।
এছাড়া গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই এমপিওভুক্তির পূর্বেই বেতন-ভাতা উত্তোলন, চার জন ল্যাব সহকারী ও এক জন অফিস সহকারী নিয়োগের নামে ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে সর্বমোট ৪৭ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ ও হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের রুম ভাড়ার নামে বড় অংকের অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত কমিটির নিকট অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সত্যতা স্পষ্ট হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে এই তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় তিন মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত রিপোর্টটি চেপে রাখেন এবং অভিযুক্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন।
বর্তমানে প্রমাণিত দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও সাবেক এই অধ্যক্ষকে পুনরায় কলেজে পুনর্বহাল করার জন্য গোপনে গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষক-কর্মচারীরা এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
