দুর্গাপূজার ঐতিহ্যে রাজশাহীর তাহেরপুর, মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজার আয়োজন

শারদীয় দুর্গোৎসবের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে বিশেষভাবে আলোচিত রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর। বাংলায় দুর্গাপূজার প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই জনপদের নাম। সেই ঐতিহ্যের আবহে আজ সোমবার মহাঅষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুমারী পূজা। দেবীজ্ঞানে কুমারী বালিকার পূজা দেখতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের সমাগম ঘটছে।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ কল্পনা করে তাঁকে পূজা করা হয়। শুদ্ধতা, পবিত্রতা ও মাতৃশক্তির প্রতীক হিসেবে কুমারী পূজা শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়। পূজার আগে নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাকে সাজানো হয়। কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয় তাঁকে। এরপর শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।
কুমারী পূজার মূল তাৎপর্য নারী ও মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি নারীর মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে এ আয়োজন।
দুর্গাপূজার ইতিহাসে তাহেরপুরের নাম
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাংলার দুর্গাপূজার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ ষোড়শ শতকে বাংলায় জাঁকজমকপূর্ণ শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাঁর আয়োজিত পূজা বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
এ কারণে তাহেরপুর শুধু রাজশাহীর একটি জনপদ নয়, বাংলার দুর্গাপূজার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। প্রতি বছর শারদীয় দুর্গোৎসব এলে সেই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য নতুন করে আলোচনায় আসে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উদযাপিত হবে। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে দুর্গোৎসব বাঙালির সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আর সেই ঐতিহ্যের ইতিহাসে রাজশাহীর তাহেরপুরের নামও বিশেষভাবে স্মরণীয়।
