জরাজীর্ণ ঘরে কষ্টের বসবাস,ঘরের ভেতর বৃষ্টির পানি পড়ে

পাভেল মিয়া,স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের কুপতলা উত্তরপাড়া গ্রামের মোখলেছার রহমান ও তার স্ত্রী সীমাহীন কষ্ট আর অভাবের কষাঘাতে জর্জরিত জীবন পার করছেন। বর্তমানে চোখে কম দেখা বয়সের ভার ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি জরাজীর্ণ একটি ঘরে দম্পতি অতি কষ্টে বসবাস করছেন। দিনের বেলায় ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে সূর্যের আলো, আর বৃষ্টি হলেই টপটপ করে পড়ে পানি। কখনো তীব্র বাতাস উঠলে টিনের চালা উড়ে যাওয়ার ভয় তাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। সুখের স্বপ্ন ভুলে এখন কোনো রকমে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ চলছে তাদের। অর্থের অভাবে ছোটো ছেলেকে পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মোখলেছার। তবুও ছেলেকে নিয়ে একবুক স্বপ্ন দেখছে তিনি। বড় হয়ে চাকরি করে পরিবারের দুঃখ দূর করবে।
কেন ঝুঁকি নিয়ে ঘরটিতে বসবাস করছেন জানতে চাইলে মোখলেছার রহমান জানান, আমি একজন দৃষ্টি প্রতিবদ্ধি, চোখে দিয়ে দেখতেই পাই না। বাজারে পান সুপারি কাজ করে সামান্য টাকা আয় করি। যা আয় করি তাতে সংসার খরচ চলে না। কিভাবে এই ঘর মেরামত করবো, বাধ্য হয়ে এই ভাঙা ঘরে ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হচ্ছে। ঝড়, তুফান শুরু হলে ঘরটিতে না থেকে বড় ছেলের ছোট্র ঘরে আশ্রয় নিতে হয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমাদের মতো কত অসহায় অনেক কিছুই পায়, অথচ আমি এত কষ্টে জীবন যাপন করেও একটি ঘর কিংবা কোন সহযোগিতা পেলাম না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুপতলা উত্তরপাড়া স্কুলের পাশে একটি ছোট্ট, নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ বাঁশের তৈরি টিনের ঘর। কোথাও পুরোনো টিন খুলে পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভিতর একটা চৌকি, নেই থাকার কোনো পরিবেশ। কারণ, বৃষ্টির পানি ঘরের ফুটো দিয়ে শরীরে পড়ে। ভেতরের দৃশ্য অত্যন্ত করুণ। এমন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মানুষের বসবাস প্রায় অসম্ভব।ঘরের ভেতরের বিভিন্ন অংশ ফাঁকা হয়ে থাকায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এ যেন পরিস্থিতির সঙ্গে অসম টিকে থাকার নির্মম লড়াই।
স্থানীয় লোকজন জানায়, এই দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে থাকলেও তিনি অভাবের কারণে বাবা-মায়ের খোঁজ নেন না। ছোট ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে বসবাস করছেন তারা। ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই তাদের। একটি ঘর ও চলার মতো সহায়তা এখন তাদের জরুরি প্রয়োজন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম নিশান বলেন, ‘হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি নিজেও এই বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর নিদারুণ কষ্ট দেখেছি। আমরা কিছু একটা করার উদ্যোগ নিচ্ছি। দানশীল ব্যক্তি ও সরকারের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি। যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে এমন হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সহজ হবে।’
সারিয়াকান্দি বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফুল বলেন, অর্থের অভাবে মোখলেছার রহমানের ছোটো ছেলেকে পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন সারিয়াকান্দি সমবায় সমিতি লিমিটেড। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম জরাজীর্ণ একটি ঘরে অতি কষ্টে বসবাস করছেন। আমরা চেষ্টা করবে তার পাশে দাড়ানো। সেই সাথে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
