বাগমারার সেই কথিত ডাক্তারকে জেল-জরিমানা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগে আলমগীর নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই সঙ্গে লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হওয়ায় সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহর প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানের সময় আরও দেখা যায়, সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি কোনো বৈধ অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এদিকে, গত ২৬ জুন (শুক্রবার) ওই ব্যক্তির চিকিৎসার পর এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
নিহত মোছা. হাবিবা খাতুন (২ বছর ৭ মাস) বাগমারা উপজেলার বড়বিহানলী ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মো. হারুন রশীদ এবং মা খুশি বেগম।
পরিবারের দাবি, নানাবাড়ি শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের ধামিনকৌড়ে অবস্থানকালে হাবিবার জ্বর ও পেটব্যথা দেখা দিলে তাকে হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে আলমগীরের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ও একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে শিশুটিকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর শিশুটি মারা যায়।
তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং চিকিৎসার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্কও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ আইন অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
