যমুনা প্রতিদিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

মান্দায় সার্টিফিকেট দিতে ‘মিষ্টি খাওয়ার’ টাকা আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

অধ্যক্ষ খালেনুর বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা থানা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) খালেনুর বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মার্কশিট ও সার্টিফিকেট প্রদানের বিনিময়ে ‘মিষ্টি খাওয়ার’ নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, টাকা ছাড়া মিলছে না প্রয়োজনীয় এসব শিক্ষাগত সনদ।

​জানা গেছে, মঙ্গলবার ওই প্রতিষ্ঠানের আফিয়া নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী তার ছোট সন্তানকে নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে যান। এসময় প্রধান শিক্ষিকা খালেনুর নাহার শেফালী নামে তার এক অফিস সহকারীর মাধ্যমে ৫০০ টাকা দাবি করেন। ওই শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা জানালে প্রধান শিক্ষিকা কিছুটা ‘ছাড়’ দেন। তিনি শিক্ষার্থীর আবেদনপত্রে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা লিখে দেন। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে ওই শিক্ষার্থী ৩০০ টাকা দিয়ে তার সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে বাধ্য হন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের বাইরে এভাবে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া অনৈতিক।

মান্দা থানা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) খালেনূর বেগম টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি একে ‘জোরপূর্বক আদায়’ বলতে নারাজ।

তিনি বলেন, “কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয় না। মিষ্টি খাওয়ার জন্য কিছু টাকা নেওয়া হয় মাত্র। আবার অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে আমরা টাকা মওকুফও করে দিই।” এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া পর আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিতে ওই শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বলেন তিনি।

​উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড নির্ধারিত ফি ব্যতীত সার্টিফিকেট বা মার্কশিট প্রদানের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো বিধান নেই। ‘মিষ্টি খাওয়ার’ অজুহাতে এই অর্থ আদায়কে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এক প্রকার ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবেই দেখছেন।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার জাহান সাথী বলেন, এভাবে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।