ভোলায় জমি দখলে বাধা দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধার ভাইয়ের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে জমি দখলে বাধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলমগীর বাদশার আপন ছোট ভাই মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
একই এলাকার মো. হেল্লাল, ফাহিমা বেগম, মো. সিফাত, মোহাম্মদ নাজমুউদ্দিন সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান।তাঁর দাবি, ভাইয়ের সূত্রে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দকৃত সম্মানী ভাতা তিনি পেয়ে থাকেন।
সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে হেল্লালের নেতৃত্বে তাঁর ভাই, মা ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। ৫ আগস্টের পর দেশে পরিবর্তন এলেও অভিযুক্তরা আবারও বেপরোয়া হয়ে তাঁর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে কুতুবা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিলন বাজার এলাকার আনন্দবাজারে আমির হোসেনের চায়ের দোকানে চা পান করতে যান তিনি। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হেল্লাল, সিফাত, ফাহিমা বেগমসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন। তাঁকে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে চ্যাংদোলা করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে উলঙ্গ করে প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মারধর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বলেন, “আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তান। অথচ আমার ওপর একের পর এক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও এখনো ন্যায়বিচার পাইনি।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গত ১ নভেম্বর বোরহানউদ্দিন থানায় বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ৫ নভেম্বর ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।
এদিকে, ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন অভিযুক্তরা। এতে তিনি বাধা দেওয়ায় তাঁর ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হেল্লাল বলেন, “জমি নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আমার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের গেঞ্জি ধরে টানাহেঁচড়া করেছি। আমরা সালিশে বসে নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ফয়সালা করলে ভালো হয়।”
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ আলী জানান, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বাবুল নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
