সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে : নাহিদ ইসলাম

গাজীপুর চৌরাস্তায় পুলিশের গুলিতে নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের গায়েবানা জানাজা কর্মসূচিতে পুলিশ ও বিজিবির লাঠিচার্জ এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় জাতীয় শ্রমিক শক্তি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৪ জন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পরে হামলায় আহতদের উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, গাজীপুর চৌরাস্তায় পোশাক শ্রমিকদের চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং নিহত শ্রমিক তৌফিকের স্মরণে জাতীয় শ্রমিক শক্তির উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল। জানাজা শুরু হওয়া মাত্রই পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা আকস্মিকভাবে লাঠিচার্জ শুরু করেন এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এতে পুরো কর্মসূচিটি পণ্ড হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিক আহত হন।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন আহত চার নেতা
১. মাজহারুল ইসলাম ফকির (২৮): জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক। ময়মনসিংহের পাগলা থানার লামকাইন গ্রামের তাহেরুদ্দিনের পুত্র। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালের সি-ব্লকের ৪৭ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন।
২. শেখ রায়হান (২৮): জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব। তিনি গাজীপুরের গাছা থানার খালকুর এলাকার শাহাবুদ্দিনের পুত্র। তিনি হাসপাতালের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
৩. আশরাফুল ইসলাম রাহুল (২৫): জাতীয় শ্রমিক শক্তির গাজীপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তার স্থায়ী ঠিকানা লালমনিরহাটের হাতিবান্দা থানার নর্দাবাস এলাকায় এবং বর্তমান ঠিকানা গাজীপুরের কোনাবাড়ী বাইমাইল।
৪. আবশ কাশেম (৪১): এনসিপি গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার তমিজ উদ্দিন সিকদারের পুত্র।
আহত মাজহারুল ইসলাম ফকিরের ভাই শফিক এবং আশরাফুল ইসলাম রাহুলের স্ত্রী শাহানা বলেন, শান্তিপূর্ণ একটি ধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং এই হামলার সুনির্দিষ্ট বিচার দাবি করেছেন।
আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, সরকার ভুলভাবে শ্রমিক আন্দোলনকে মোকাবেলা করায় দেশের পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “শ্রমিকদের এই ন্যায্য আন্দোলনকে কোনো ধরনের কর্ণপাত না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তারা এটিকে কোনো শ্রমিক আন্দোলন হিসেবেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। বরঞ্চ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও সহিংসতার নাটক সাজিয়ে আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা চলছে।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরাও শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয়েছে। লাঠি ও হকি স্টিক নিয়ে মাঠে নেমে শ্রমিকদের পেটানোর দৃশ্য এর প্রমাণ। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের মতোই কর্তৃত্ববাদী কায়দায় দমন-পীড়নের পথ বেছে না নিয়ে অবিলম্বে শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় আহতদের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
