শাহজাদপুরে অর্ধকোটি টাকার ভেজাল কীটনাশক জব্দ, মালিকের জেল-জরিমানা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ডের নকল কীটনাশক তৈরির সময় ‘হারিজ এগ্রো কেয়ার’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স।
এ সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল কীটনাশক ও নামী ব্র্যান্ডের মোড়ক জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানা মালিক মোঃ হারিজ উদ্দিনকে এক মাসের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত হারিজ উদ্দিন উপজেলার মশিপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের উপপরিচালক মোঃ সোহেল শেখের নেতৃত্বে র্যাব-১২-এর একটি দল শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর উত্তরপাড়ার ওই গোপন কারখানায় অভিযান চালায়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ জেরিন আহমেদ এবং শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারখানায় দেশের বিভিন্ন কোম্পানির ২৮ থেকে ৩০টি ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত বিপুল পরিমাণ ভেজাল কীটনাশক, কাঁচামাল ও খালি মোড়ক পাওয়া যায়; যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ‘হারিজ এগ্রো কেয়ার’ নামের এই প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গায়ে উৎপাদনের ঠিকানা গাজীপুর দেওয়া থাকলেও, কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই গোপন কারখানায় সাধারণ শ্রমিক দিয়ে এসব নকল পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লোকচক্ষুর আড়ালে প্রায় এক যুগ ধরে রাতের অন্ধকারে এখানে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করা হচ্ছিল। বাইরে থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত মনে হলেও ভেতরে চলত নকলের কারবার। উৎপাদিত এসব ভেজাল কীটনাশক তালগাছি বাজারে অবস্থিত তাদের নিজস্ব দোকান ‘হারিজ বীজ ভান্ডার’সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। এর ফলে প্রান্তিক কৃষকেরা চরম প্রতারণা ও ক্ষতির শিকার হচ্ছিলেন।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে নামী ব্র্যান্ডের নকল কীটনাশক তৈরি হয়ে আসছিল। টাস্কফোর্সের অভিযানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ভেজাল কীটনাশক ও উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার মালিক ও ভেজাল চক্রের মূল হোতা হারিজ উদ্দিনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
