সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর বারঠাকুরী ইউনিয়নকে আধুনিক, শিক্ষিত, মাদকমুক্ত ও কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাসুম আহমদ।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইউনিয়নের চান্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অরুণ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং মাহতাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় মাসুম আহমদ বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
শিক্ষার প্রসারে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বৃত্তির ব্যবস্থা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার, মৎস্য ও পশুপালনের উন্নয়ন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং দরিদ্র মানুষের সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে মাসুম আহমদ বলেন, জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যুনিবন্ধনসহ সরকারি নিয়মে বিনামূল্যে প্রদানযোগ্য সেবা বিনামূল্যেই নিশ্চিত করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর প্রাপ্য সম্মানী ও ভাতার সম্পূর্ণ অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ না করে জনকল্যাণ ও ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উন্নয়নবঞ্চনার কথা তুলে ধরেন।
তাঁরা বলেন, নির্বাচনের সময় এলেই তাঁদের বারঠাকুরী ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অন্য সময় যেন পশ্চিম পাকিস্তানের বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হয়। এমন মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁরা এলাকার প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বারঠাকুরী, কসকনকপুর ও সুলতানপুর—এই তিন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে এত বড় জনপদে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়। তাঁরা নির্বাচিত হলে মাসুম আহমদ যেন এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সালিশি ব্যক্তিত্ব মুদরিছ আলী মেম্বার, চান্দপুরের নিপুল বিশ্বাস, খারিজার মাসুক উদ্দিন, টিলারগ্রামের কামরুল ইসলাম, দরিয়াপুরের এবাদ উদ্দিন, চিকিৎসক জামাল আহমেদ, দেবউত্তরের মাস্টার আব্দুল হান্নান, সোনাসারের শাহেদ আহমদ, চিকিৎসক তাজ উদ্দিন ও আল আমীন আহমদ।
এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।