শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহী মহানগরীর সিটি সেন্টার কাজের অগ্রগতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা পরিষদে বসলেন নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান বকুল শাহজাদপুরে মদের দোকান বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে বিয়ের এক মাসের মাথায় গৃহবধূর মৃত্যু,থানায় মামলা স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ স্কাউটস হবে আলোকবর্তিকা : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৩০টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা বগুড়ার খামারকান্দী সূর্য সন্তান ক্লাবের আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শিশু তামিম হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন,গ্রেফতার-১ রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড
নোটিশ :
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘যমুনা প্রতিদিন ডট কম’

রাজশাহীতে চুরি আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে গ্রামবাসী

গত ৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে বেড়ার ঘর কেটে একটি সাইকেল, ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যদের আটকে রেখে অটোরিকশার ৪টি ব্যাটারি এবং ৮ জানুয়ারি তালা কেটে দেড় লক্ষাধিক টাকার ৭ মাসের গর্ভবতী গাভী চুরি হয়েছে একটি গ্রামেই।পবা উপজেলার দামকুড়া থানাধীন মুরারীপুর নিচুপাড়া এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই চুরির ঘটনায় আতঙ্কে এলাকাবাসী।এতে নির্ঘুম রাত কাটছে সবার!

এই চোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের এলাকাতেও। প্রশাসনের আন্তরিক দৃষ্টি কামনার পাশাপাশি এখন রাত কাটছে জেগে থেকেই।

সর্বশেষ ৮ জানুয়ারি গরু চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।তবে বাকি দুইটি ঘটনা জানা নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরারীপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের বাসার তালা কেটে গরুটি চুরি করা হয়েছে।এ ঘটনার দেড় বছর আগে একই জায়গা থেকে একটি গাভী ও একটি ষাঁড় চুরি হয়েছিলো।যার আনুমানিক মূল্য ছিলো ৩ লাখ টাকা।সে ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চোরকে আটক করতে পারলেও গাভী ও ষাঁড় আজও ফিরিয়ে দিতে পারেনি।চুরি থেকে বেঁচে যাওয়া ছোট্ট বাছুরটি ছিলো তাদের শেষ সম্বল।দেড় বছর ধরে পোষার পর সেই গাভীটিকেও নিয়ে গেলো চোর।এতে আহাজারিতে ফেটে পড়ে ভুক্তভোগী পরিবার।

অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি যাওয়া ভুক্তভোগী মো. ইয়াসিন আলী বলেন, গত বছর আমার চাচাত ভাই আব্দুল হাকিমের গরু চুরির কিছুদিন পর আমার বাবার অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়েছিলো।এবার আমাদের গাড়ির ব্যাটারি চুরি হওয়ার পরের দিন ভাইয়ের গরু চুরি হলো।ঋণের টাকা তুলে গত মাসেই ব্যাটারি কিনে লাগিয়ে ছিলাম।সে ব্যাটারি চোর নিয়ে গেলো।এখন তো চোখে আর ঘুম নেই।বাড়িতে ছোট্ট একটা গরু আছে, সেটাও যদি চোর নিয়ে যায় এ ভয়েই রাতে ঘুমাতে পারছি না।

এই গ্রামের বাসিন্দা ইয়ামিন আলী বলেন, রাতে কীভাবে ঘুমাই।এতো সিকিউরিটি রাখার পরও চুরি হয়ে যাচ্ছে।চোররা অস্ত্র নিয়ে আসছে।একারণে ভয়-আতঙ্ক দুটো নিয়েই রাতের অধিকাংশ সময় নির্ঘুম কাটছে।

দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইনুল বাশার বলেন, গরু চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে।দেড় বছর আগেও চুরির ঘটনায় চোরকে নাকি ধরা হয়েছিলো।ভুক্তভোগীদের ধারণা ওই আবার চুরি করতে পারে।এজন্য তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই চোরকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।আর ব্যাটারি ও সাইকেল চুরির বিষয়টি জানা নেই।

এদিকে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে গত ৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে ৩১টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।চোরের দলবেঁধে ডাকাতি কায়দায় সোনাদানা ও নগদ টাকাপয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করছে।উপর্যুপরি চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই ধরতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, চোরেরা সাধারণত বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে, জানালা বা ব্যালকনির গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকছে।এলাকার শিক্ষক ও চাকরিজীবীদের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে বেশি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ জুন বাউসা ইউনিয়নের দিঘা হিন্দুপাড়া গ্রামের এনামুল হকের আধা পাকা বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে চোর।তারা বাক্স ভেঙে সাড়ে ৫ ভরি সোনার গয়না চুরি করে নিয়ে যায়।

এনামুল হক বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্রিল কাটা দেখে চুরির ঘটনা বুঝতে পারি।গত ৩০ বছর এই বাড়িতে থাকছি।কখনো এমন চুরির ঘটনা দেখিনি।

৯ জুন রাতে ইউনিয়নের দুটি গ্রামের ছয়টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।বাউসা পূর্বপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়ির একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ১ ভরি সোনার গয়না ও নগদ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।একই রাতে র‌্যাবে কর্মরত আবদুল কুদ্দুসের বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা, বাউসা সরকারপাড়া গ্রামের মুকুল সরকারের বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়।এছাড়া মো. সান্টু, কলেজশিক্ষক খলিলুর রহমানসহ পলান সরকারের পাঠাগারের গ্রিল কেটে চোর ঢুকলেও সোনাদানা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়।

বাউসার দিঘা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দিঘা মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহাজাহান আলী জানান, ১২ জুন তার বাড়িতে চুরি হয়।সড়ক-সংলগ্ন তার ফ্ল্যাট বাড়ির একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে চোর ঢুকে সাড়ে ৬ ভরি সোনা ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।১৫ জুন দিঘা বলারবাড়ি গ্রামের চারটি বাড়িতে চুরি হয়।২০ জুন দিঘা পশ্চিম পাড়ার প্রেমানন্দ কর্মকারের বাড়ি ও রহিমের বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে চোরর দল।বাড়ির মালিক জেগে গেলে মালামাল চুরি না করে বেরিয়ে যায়।

২৯ জুন রাতে দিঘা আঠালিয়া পাড়া গ্রামে জমিরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দামের দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়।৩০ জুন রাতে দিঘা নওদাপাড়া কাশেম আলী ও আবুল কালামের বাড়িতে হানা দিলে জেগে গিয়ে তারা চোরকে ধাওয়া করেন।

৪ জুলাই দিঘা আঠালিয়া পাড়া গ্রামের পুলিশ সদস্য আশরাফুল আশেকিনের বাড়িতে ধাওয়া খেয়ে দিঘা নওদাপাড়া গ্রামের মুক্তার আলীর বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে নগদ দেড় হাজার টাকা ও রেফ্রিজারেটর খুলে ২ কেজি মাংস নিয়ে যায়।৫ জুলাই রাতে বাউসা ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ঢুকে দেড় লাখ টাকা দামের একটি গরু বের করে।

বাঘা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, লালপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।বাউসা ইউনিয়নের পরিস্থিতি খুব খারাপ।

তথ্যসূত্র : ডেইলী্ বাংলাদেশ 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 1 =


অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

x
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com