সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহীতে কলেজ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, রিকশাচালক গ্রেপ্তার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ সচিব মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস সরিষাবাড়ীতে হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আদালতে এফিডেভিট রাসিক মেয়রের সাথে রেডা‘র নব-নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ৮ লাখ টাকা যৌতুকের যন্ত্রনায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্বহত্যা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কমিটি গঠন ফরিদপুরে আলোচিত ভ্যানচালক হত্যায় আদালতের রায় ঘোষণা ইতালিতে ইদ্রিস ফরজীকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী ওয়াদুদ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক একীভূতকরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
নোটিশ :
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘যমুনা প্রতিদিন ডট কম’

সমাজের বিকাশে জাহানারা ইমামের অবদান : এক অনন্য সংগ্রামী নারীর জীবনগাথা

জাহানারা ইমাম, আমাদের শহীদ জননী, শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময়ই নয়, বরং তার পরেও বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।২৬ জুন ২০২৪, তার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে, আমরা তার অবদান এবং সমাজের বিকাশে তার ভূমিকা নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি।

মুক্তিযুদ্ধ এবং ব্যক্তিগত সংগ্রাম:

মুক্তিযুদ্ধ এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার সংগ্রাম ছিল ব্যক্তিগত এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয়। তারা ব্যক্তিগত জীবনের সব কিছু ত্যাগ করে একটি বৃহত্তর স্বপ্নের জন্য লড়াই করেছেন। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের সফলতা এবং স্বাধীনতা অর্জন দেশের প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত সংগ্রামকে সহজ করেছে এবং তাদের জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।মুক্তিযুদ্ধ ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম উভয়ই সাহস, দৃঢ়তা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক।

সেই ইচ্ছাশক্তি থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাহানারা ইমামের পরিবার একটি গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির সম্মুখীন হয়। তার সন্তান শাফি ইমাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে শহীদ হন। এই বেদনাদায়ক ঘটনা তাকে দমাতে পারেনি বরং আরও শক্তিশালী করে তোলে। তিনি তার ব্যথা ও শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার লেখা “একাত্তরের দিনগুলি” মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি মূল্যবান দলিল হয়ে আছে, যা মুক্তিযুদ্ধের নৃশংসতা ও বীরত্বের পাশাপাশি একজন মায়ের হৃদয়বিদারক কাহিনি বর্ণনা করে।

ন্যায়বিচার এবং সামাজিক আন্দোলন:

ন্যায়বিচার এবং সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে একটি গভীর সংযোগ রয়েছে। সামাজিক আন্দোলন সাধারণত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই সংঘটিত হয়। যখন কোনো সমাজে ন্যায়বিচারের অভাব দেখা দেয়, তখন জনগণ সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং ন্যায্যতার দাবিতে সোচ্চার হয়।একটি কার্যকর সামাজিক আন্দোলন কেবল অদালতের মাধ্যমে নয়, বরং জনসচেতনতা ও জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। ন্যায়বিচার ও সামাজিক আন্দোলন আমাদের শেখায় যে, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন এবং সকলে মিলে একত্রিত হয়ে সংগ্রাম করলেই সমাজে সত্যিকার পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এই বিশ্বাস রেখেই দ্রোহী মা জাহানারা ইমাম ১৯৯২ সালে গঠন করেন’ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। এই কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়ের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলন শুধু বিচারিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি পুরো জাতিকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ:

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সমাজ তার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রগুলোতে উন্নতি করতে পারে। এই দুই ক্ষেত্রের সমৃদ্ধি মানুষকে আরও মানবিক, সৃজনশীল ও সমৃদ্ধ করে তোলে।

সেই লক্ষ্য থেকেই জাহানারা ইমাম একজন কৃতী লেখক ও শিক্ষাবিদ হয়ে উঠেছিলেন। তার লেখায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংগ্রাম এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হয়েছে। “আমাদের ছোট রাসেল সোনা”, “নিষ্ঠুর শিলালিপি” এবং “জীবনের এক ফোঁটা” প্রভৃতি গ্রন্থ তার সাহিত্যকর্মের অন্যতম নিদর্শন। এসব লেখায় তিনি সমাজের বিভিন্ন সমস্যার উপর আলোকপাত করেছেন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছেন।

নারী ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্ব:

নারী ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্বের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতায়িত নারী তার নেতৃত্বের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নেতৃত্বের সুযোগ নারীদের ক্ষমতায়নের পথ সুগম করে এবং তাদের সম্ভাবনাকে উন্মোচন করে।নারী ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের সমন্বিত প্রচেষ্টা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এর মাধ্যমে নারীরা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায্য ও সমতাপূর্ণ সমাজ নির্মাণ করতে পারে।

জাহানারা ইমাম নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং আত্মত্যাগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি নারীদের জন্য একটি প্রেরণার উৎস, বিশেষ করে যারা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছেন।

সমাজ সংস্কার:

জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনসমূহ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তার সংগ্রাম ও অবদানের ফলে বাংলাদেশের সমাজ ও বিচার ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক হয়েছে। তিনি সমাজে যে প্রভাব ফেলেছেন তা শুধু তার জীবদ্দশাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তার মৃত্যুর পরেও সমাজে তার অবদান অনুপ্রেরণা হিসেবে বিদ্যমান।

জাহানারা ইমামের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে আরও এগিয়ে যাব। তার দেখানো পথে চলতে আমাদের কখনও পিছপা হওয়া উচিত নয়, কারণ তার আদর্শ ও সাহসিকতা আমাদেরকে সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে চলতে প্রেরণা জোগাবে।

তিনি সমাজের বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। তার সংগ্রামী জীবন এবং সমাজের প্রতি তার অবদান আমাদের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং তার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

ওয়ালিউর শেখ
দপ্তর সম্পাদক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, রাজশাহী মহানগর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 1 =


অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

x
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com