বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন বিজনেস নির্দেশনা কলামঃ Business Strategy পরিবর্তন করুন রক্ত দিয়ে কিনেছি নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুতে প্রদ্যুৎ কুমারের শোক জকিগঞ্জে পরিত্যক্ত দোকান থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের চাল উদ্ধার ‘মুজিবনগর দিবস’ বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন : প্রধানমন্ত্রী রাসিকের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে সর্বজনীন পেনশন চালুকরণের নিমিত্তে মতবিনিময় সভা নড়াইল ডিবি পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ একজন গ্রেফতার গাইবান্ধায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্নান উৎসব উপজেলা নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে নুরুল হুদা
নোটিশ :
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘যমুনা প্রতিদিন ডট কম’

নষ্ট মেয়ে

মৃধা মুহাম্মাদ আমিনুলঃ

নষ্ট মেয়ে নাম বিছানা থেকে, অসভ্য জানোয়ার চোখের সামনে থেকে সর।দুর হ বে* মা* (রেগেমেগে কথা বললেন আমার স্বামী) আজকেই আমাদের বিবাহ হয়েছে আজকেই বাসর। বাসর রাত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাত হিসেবে জানতাম, বাসর রাত নিয়ে ধনী গরীব সবাই আলাদা আলাদা স্বপ্ন থাকে। এই রাত নিয়ে আমার হাজারো কল্পনা জমা ছিল, এ রাতটা আমার জন্য খুব স্পেশাল রাত হবে ভেবে রেখে ছিলাম।

সত্যি খুব স্পেশাল রাত হয়েছে, বাবার ৩ কন্যার মাঝে আমিই বড়, বাবা মেয়ে সন্তান পছন্দ করত না, তবুও ভাগ্যর নির্মম পরিহাস আমাকে তার ঘরেই পাঠালেন সৃষ্টিকর্তা। আমার জন্মের পর বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করেন, মায়ের সাথে সমস্ত সম্পর্ক বাতিল করে দেয়, অভাব-অনটনে বড় হয়েছি আমি, সাজুগুজু করার খুব শখ ছিল আমার। খেলা ধুলা, নাচ গান, গাছে চড়া আমার শখের বাহিরে নয়।

আমার বয়স যখন ৯ বছর তখন বাবা বাড়িতে আসেন,মায়ের কাছে অনুনয়-বিনয় করে ক্ষমা চায়, মা তাকে থাকার জন্য সম্মতি পোষণ করেন। কিন্তু বাবা আমাকে একদম সহ্য করতে পারতেন না। অথচ তার ২য় বউয়ের একটা ছেলে ছিলো তাকে সব সময় আগলে রাখতেন। ছেলেটাকে রেখে ওর মা এক ভ্যান চালকের সাথে পালিয়ে গিয়েছে।

তখন এসব বুজতাম না, এখন বুজতে পারছি সব, দিন দিন সমাজ কত ধ্বংসের পথে চলছে,দেখতে দেখতে আমার বয়স এখন ১৮ বছর।আর আজকেই আমার সাথে এমন আচারন করছে আমার স্বামী।

আমার বিবাহ হয় মামার পছন্দ করা ছেলের সাথে, ছেলে কৃষি কাজ করে, আমি বিবাহে হ্যাঁ বা না সম্মতি পোষণ করার কোনও সুযোগ পাইনি। মামা মায়ের কাছে বলেছে আর মা আমাকে বলছে তোর পলাশের সাথে বিয়ে। গ্রামের বিবাহ গুলো কত নাচ গান হয় আমার বিবাহে একটা কাকও নাচলো না।

আশা ছিলো বাবার বাড়ি সারাজীবন কষ্ট করেছি, স্বামীর সাথে সুখে অমরন কাটিয়ে দিব। কিন্তু তা আর হলো কই.? আমার জামাই বাসর রাতেই আমাকে সন্দেহের তীর নিক্ষেপ করলেন।আমি নাকি বে* শ্যা। আমার সতীত্ব নাকি আমি বিলিয়ে দিয়েছি।

তার কথা গুলো চুপচাপ শোনা ছাড়া আমার কিছুই করার ছিলো না আর।আমি নারী আমি জন্ম থেকেই অবহেলিত। সমাজে কি আমার মূল্য কখনও দিবে না ইসলামের মত করে কেউ।

ইসলামের মহান বানী সুরাতুন নুর এর ২৬ নং আয়াত কি মানুষ জানে না যেখানে আল্লাহ নিজে বলেছেন ” দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্যে; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্যে; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্যে। লোকে যা বলে এরা তা হতে পবিত্র; এদের জন্যে আছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।”

মূলনীতি বলে দেওয়া হয়েছে যে, পবিত্র ও চরিত্রবতী নারী পবিত্র ও চরিত্রবান পুরুষের জীবন সঙ্গী হবে।আর বদ চরিত্র পুরুষের জন্য বদ চরিত্রের অধিকারী জীবন সঙ্গীনী হবে। আমার জামাই কি জানে না সে পবিত্র নাকি অপবিত্র। সে পবিত্র হলে তো আমিও পবিত্র।

আল্লাহর শপথ আমি সত্যি পবিত্র, তবে কি এই সমাজের মানুষ প্রথম মিলনে রক্ত পাত না হলে আমাকে পতিতা-দের সঙ্গে তুলনা করবে.? বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে এটা বলা কতটুকু যৌক্তিক আমার বোধগম্য নয়।

মানুষ এখনও পরে আছে এনালগ যুগে। তারা জানে না এসব অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রেই, হাইমেন (সতীপর্দা) আপনা-আপনি ভাবে অপসারিত হয়ে থাকে, যেমন ব্যায়াম করলে, সাঁতার কাটলে, বাইসাইকেল চালালে, গাছে চড়লে, এমন কি ঘোড়ায় চড়লেও। হাইমেন বা সতীচ্ছদ নামের পর্দা যে কোন ভারী কাজ করলেও আপনা থেকেই ছিঁড়ে যেতে বা উধাও হয়ে যেতে পারে, এমন কি নাচানাচি করলে কিংবা মাসিক চলাকালীন সময় ট্যাম্পুন ব্যবহার করলেও।

এই সংবাদ আমার জামাইয়ের কর্ণকুহরে সাময়িক সময়ের জন্য ও কখনও পৌঁছে নাই।আমার অশ্রুসিক্ত নয়নে কেঁদে কেঁদে বললাম বিশ্বাস করুন আমি আমার সতীত্ব আমানত হিসেবে সংগ্রহে রেখেছি। চুপ কর বে* ( চোখ রাঙিয়ে বললেন আমার স্বামী) আমি আর কিছু বলার সাহস করলাম না, সে একা একা বলতে লাগলেন। আসছে তিনি সৎ। যদি সৎ হইত এই সাদা বিছানার চাদরে রক্ত নাই কেন.?

কথা গুলো এভাবেই লেখা ছিলো ফেরিওয়ালা মামার ঝোলা থেকে পরে যাওয়া লাল টুকটুকে এই ডাইরির প্রথম পাতা থেকে শুরু করে।আমি সবটা পড়ে অবাক হইলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × one =


অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

x