রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রনচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী বিটিভির নৃত্যানুষ্ঠানে নন্দীগ্রামে জামালপুর পাঁচপীর দাখিল মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে রাবি প্রেসক্লাবের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন শাহজাদপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণ গেল কৃষকের নালিতাবাড়ীতে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর শ্রদ্ধা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় রেজাউল করিম মন্টুকে নির্বাচিত করতে এলাকাবাসীর মতবিনিময় সারিয়াকান্দিতে পালিত হয়েছে ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ রাজশাহীতে ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছে ডাঃ আল আমিন বাগমারায় মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির জাতীয় বীমা দিবস পালন
নোটিশ :
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘যমুনা প্রতিদিন ডট কম’

পাঠক থেকে লেখক হওয়ার গল্প

লেখকঃ তাসফীর ইসলাম (ইমরান) 

পত্রিকা মূলত কি বুজতাম না আমি। আমাদের বাসায় প্রতিদিন সকাল বেলা একজন মুরুব্বি একটা পেপার রেখে যেতো। কখনো ছুঁয়েও দেখিনি আমি। রাতের বেলা পরিবারের সবাই মিলে যখন একসাথে আড্ডা দিতাম , বাবা তখন বলতো পেপার পড়লে নিত্য নতুন অনেক কিছু জানা যায়। সেই থেকে পেপার পড়ার অভ্যাস। আমাদের এলাকায় পত্রিকা সচারাচর পাওয়া যেতে না। পত্রিকা পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে মোটামুটি স্কুলজীবন থেকে। তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। খেলার পাতা , পড়াশোনার পাতা , ফান ম্যাগাজিন , স্বপ্ন নিয়ে— এগুলো চলে যেত আমার দখলে। পত্রিকায় বিভিন্ন ফিচার , গল্প ভালো লেখা গুলো আমি যত্ন করে দিতাম। নিজের ডায়েরিতে নিজের অনুভূতি নিজের কথাগুলো লিখে রাখতাম। আম্মু খুব ভালো গল্প লিখে পাড়তো , তার থেকেই গল্প লেখার হাতেখড়ি আমার।

পত্রিকায় বড়ো আকারে যখন কারো নামটা ভেসে উঠতে , তখন মনে মনে বলতাম- “ইস যদি পত্রিকার ভাঁজে─ তাসফীর ইসলাম (ইমরান) নামটা আসতো।” সেদিন থেকেই পত্রিকায় লেখা সাধ জাগে আমার। গ্রামের পোলা কিভাবে পত্রিকায় লিখবো বলুন! জেলা পর্যায়ে কিছু অনলাইন পত্রিকা ছিলো। এক বন্ধুর মাধ্যমে লেখা পাঠানোর মেইল গুলো সংগ্রহ করেছি। অনেক পত্রিকায় অনেক লেখা পাঠিয়েছে , ছাপা হয়নি কখনো। মাঝেমধ্যে মন খারাপ হতো , আমাকে দিয়ে হবে না বুঝি ; বড্ড খারাপ লিখি আমি। আপাতত লেখালেখি বাদ দিয়া মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য উঠেপড়ে লাগলাম , ভালো রেজাল্ট করতে হবে তো। সৃষ্টিকর্তায় সহায় থাকায় মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করি।

নিজে নিজে উপন্যাস লেখা শুরু করি। প্রায় পান্ডুলিপি গোছানো শেষ। কিভাবে ছাপানো যায়? এই চিন্তা মাথায় চলে আসে। “একটা প্রকাশনীর সাথে যোগাযোগ করি। যত টাকার প্রয়োজন ছিলো , মনে মনে ভাবতে ছিলাম তত টাকা দিয়ে আমি উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডী টা পের হতে পারবো।”

বাদ দিলাম বই ছাপানোর চিন্তা। কেন জানি বারবার নিজেকে শূন্য শূন্য মনে হলো , একটা লেখাও কোথাও ছাপাতে মারলাম না। অপূর্ণতা রয়েই গেলো। তারপর হলো বাড়ি ছাড়ার সময় , উচ্চ মাধ্যমিকে এলাকায় ছেড়ে অন্য একটা কলেজে ভর্তি হই।

তখন তো ফেসবুক চালাতাম না, কোনো অনলাইন মিডিয়ায় যুক্ত ছিলাম না ; এসব কি বুজতাম না। হঠাৎ পত্রিকা পড়তে পড়তে চোখে আসলো আপনি গল্প, ফিচার লিখতে পারলে এই ঠিকানায় মেইল করুন। আমি লেখা পাঠিয়েই যাচ্ছি কিন্তু প্রকাশিত আর হয় না। প্রায় ১৫ দিন পর সকাল ৯ টায় আম্মুর ফোন। আমি ঘুমাতে ছিলাম , কলেজ বন্ধ ছিলো সেদিন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে “মায়ের কন্ঠে শুনতে পেলাম অভিনন্দন তাসফীর ইসলাম।” আমার ছোট্ট ইমরানের নামটা জাতীয় পত্রিকায় ছাপা অক্ষরে গল্প কথক হিসেবে আসছে।

গল্পঃ অবুঝ দিনের গল্প

লেখকঃ তাসফীর ইসলাম (ইমরান) 

সেদিন থেকে পত্রিকার সাথে আমার পথচলা শুরু। যারা প্রথম আলো পত্রিকা পড়তে ভাইয়া, আপু, মামা, শিক্ষক, বন্ধু সবাই ফোন দিয়ে সেদিন অভিনন্দন জানিয়ে ছিলো। কারণ এটা আমার স্বপ্ন ছিলো।

যখন এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করি , তখন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক─ রচনা ও গল্প লেখা প্রতিযোগিতা আরো কয়েকটা ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। আমি শ্রদ্ধেয় মোঃ বেলাল সাইদ স্যারের কথা মতো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। গল্প লেখা প্রতিযোগিতা এবং রচনা প্রতিযোগিতায় কলেজ শাখা ক গ্রুপ থেকে আমি প্রথম হয়েছিলাম। আমাকে নিয়ে সেদিন জেলা পর্যায়ের একটা পত্রিকায় ফিচার লেখা হয়েছিল। কলেজে সবাই অভিনন্দন জানিয়ে ছিলো। “সেদিনের অনুভূতি কখনো ৫০ টি বাংলা বর্ণ মালা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব না।” এরপর থেকে আমাকে আর থেমে থাকতে হয়নি। আমার আকাশপথে সাফল্যের সূর্য্যি মামা উঁকি দিতে লাগলো। অনলাইন পত্রিকা বাদে লেখা শুরু করতে লাগলাম জাতীয় পত্রিকা গুলো। প্রথম আলো , ইত্তেফাক , যুগান্তর , যায়যায়দিন , কালের কন্ঠ সহ অনেক গুলো পত্রিকায় নিজের ছোট্ট নামটা ছাপাতে সক্ষম হয়েছি। অংশগ্রহণ করি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। ২০২০ সালের ইয়াং রাইটার্স অ্যাওয়ার্ডে অংশগ্রহন করে হয়েছিলাম প্রথম , পেয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু গ্রান্ড মাস্টার অ্যাওয়ার্ড , মুজিব অলিম্পিয়াড সবকিছু নিয়ে লেখা হয়েছিলো প্রথম আলো পত্রিকায় আরকটি ফিচার। আমার গোছানো পান্ডুলিপি দেখে এক প্রকাশনী নিচ খরচে বই বের করতে রাজি হয়ে গেলো। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইনশাআল্লাহ্ ২৪ সালের বইমেলায় আসবে আমার প্রথম প্রথম কাব্যগ্রন্থ “রোদের দিনে রাত নামে”

আমার শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে , সবকিছুর পিছনে আমার পরিবার আমাকে সাপোর্ট দিয়ে গেছে। আমি এখনো তাদের জন্য কিছু করতে পারিনি। স্বপ্ন আছে মা-বাবাকে নিয়ে আকাশ ছোঁয়ার। আমি হয়তো বড় হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি , সবকিছু সামলে নিতে শিখে গেছি ; কিন্তু বাবা মায়ের কাছে আজও ছোট্ট রয়ে গেছি্। আমি জানি নিন্দুকের নিন্দা, মানুষের কটাক্ষ, সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেই এ সাধনা আমাকে চালিয়ে যেতে হবে। “আমি হয়তো বড় কোন লেখক হতে পারবো না , পারবো না ইতিহাস লিখতে। তবে পারবো স্বপ্ন জয়ের ভিন্ন একটা গল্প লিখতে।” যে গল্পটা পড়ে আমার মতো শূন্য কেউ মুখে হাসি রেখে শিকড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখবে , তাতেই আমার সার্থকতা।

আপনি যদি লেখাটা এত দূর পড়ে থাকেন , আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। কারণ আমার লেখা যখন পত্রিকায় ছাপা হয় তখন আমি আর প্রিয়জনই সবথেকে বেশি পড়ি। আবার কবে আমার স্বপ্ন পূরণের গল্প টা জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হবে সেই অপেক্ষায় আছি।

তাসফীর ইসলাম (ইমরান) 

গল্প কথক ─ প্রথম আলো বন্ধুসভা।

শিক্ষার্থীঃ পুরকৌশল অনুষদ (আবিপ্রবি) 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ