বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিদেশে নেয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ,থানায় অভিযোগ বিরামপুরের ৪নং দিওড় ইউনিয়নে ভিডব্লিউবির চাল বিতরণ বিএমএসএফ’র সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা সিরাজগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে মান সনদ না থাকায় ইটভাটা ও রেস্টুরেন্টকে জরিমানা নবাবগঞ্জে জমিজামা সংক্রান্ত কলহে প্রতিপক্ষকে মারপিট ও বাড়ী ভাঙচুর-লুটপাট,থানায় মামলা সারিয়াকান্দিতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত বর্তমান সময়ের সেরা রোমান্টিক জুটি নয়ন-অধরা নাগরপুরে দুই দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন সারিয়াকান্দিতে যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠন তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান
নোটিশ :
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘যমুনা প্রতিদিন ডট কম’

নড়াইলে ধানের ফলন ভালো হলেও খরচের তুলনায় দাম কম,শঙ্কায় কৃষক

নড়াইলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে আমন ধান।সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।ফলন মোটামুটি ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় উঠবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।

এদিকে ফলন ভালো হয়েছে দাবি করে কৃষি বিভাগ বলছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং কৃষক ন্যায্য মূল্য পেলে আগামীতে আমান চাষ আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে।আবাদ হয়েছে ৪২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে।লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪২৩ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।ইতোমধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ জমির ধান কর্তন হয়েছে।

সরেজমিন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে আমন ধানের খেত সবুজ থেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে।কৃষকরাও ফসল ঘরে তুলতে দিন-রাত এক করে কাজ করছে। কেউ ধান কাটছে, কেউ আঁটি বাঁধছে।কেউ কেউ সেই ধান মাথায় নিয়ে খেত থেকে বাড়ি যাচ্ছে।আবার কেউ করছে মাড়াইয়ের কাজ।সকাল থেকে দিনভর এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।তবে কৃষকের মুখে নেই হাসি।

ফলন মোটামুটি ভালো হলেও সার, কীটনাশক, ধান কাটা শ্রমিকসহ অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে।খরচের তুলনায় ধানের দাম কম।ফলে ধানের দাম না বাড়লে লাভ তো দূরে থাক এই দামে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে এখন শঙ্কায় কৃষক।

সদর উপজেলার উজিরপুর এলাকার আমন চাষি সমীর সিকদার বলেন, ধানের ফলন একেবারে খারাপ না।ফলন ভালোই।কিন্তু সার, ওষুধ দিয়ে যে খরচ পড়ে তাতে তাদের মোটেই লাভ থাকে না।খরচের তুলনায় ধানের দাম কম।দাম বাড়ানো উচিত।দাম না বাড়ালি কৃষক বাঁচবে না।

অজিত বিশ্বাস জানান, তারা যে দাম পাচ্ছে সে দামের তুলনায় যে খরচ হয় সে খরচের পয়সা তাদের বাঁচে না।এ বছর পোকার (কারেন্ট পোকা) কারণে বিঘা প্রতি ধানের ফলনও কম হয়ছে।তারপর সার-মাটিতে যে খরচ তা চালান একটুও মেলে না।চাষি মানুষ, চাষ করতে হয়, তাই করে যাচ্ছেন।

কার্তিক দাসসহ জেলার আরো কয়েকজন কৃষক জানান, সব কিছুর যে দাম তাতে ধানের দাম ১৫শ টাকার নিচে হলে কৃষকের লস।যেভাবে খরচ হয়, তাতে কৃষকের বেঁচে থাকা সম্ভব না।তারপরও নিজেদের জমি, চাষ না করে কি করবেন।না খেয়ে তো আর মরা যায় না।তাই বাধ্য হয়ে লস হলেও চাষ করা লাগে।

এদিকে আমনের ফলন ভালো হয়েছে দাবি করে নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রোকনুজ্জামান এ প্রতিবেদক উজ্জ্বল রায়কে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আগ্রহের সাথে রোপা আমন চাষ করেছে।তুলনামূলক রোগবালাই এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।তবে কৃষকদের একটি আশঙ্কার জায়গা হচ্ছে ধানের দাম।প্রতিটি স্তরে যে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং কৃষক যদি যথাযথ মূল্য পায় তাহলে নড়াইলসহ সারাদেশে রোপা আমনের আবাদ বাড়বে।একইসঙ্গে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে কৃষক আরও আগ্রহী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ