ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'যমুনা প্রতিদিন ডট কম' এ সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

শীতের আঘাত শিশুর গায়ে

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতুঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩ ২৩ বার পড়া হয়েছে
যমুনা প্রতিদিন অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গায় অব্যহত রয়েছে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ। মাঘের হাড় কাপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস।আর ২২ ই জানুয়ারি রোববার সকাল নয়টায় তাপমাত্রা দাঁড়ায় ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় সূর্যের উত্তাপ কাজে আসছে না।হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।শীতের প্রভাব পড়েছে শিশু এবং বৃদ্ধদের ওপর।টানা শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। ভীড় জমাচ্ছে হাসপাতালে।

টানা শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে চুয়াডাঙ্গায়।প্রতিদিন নতুন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে।ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৪ গুন বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে।বেশির ভাগ শিশু-বৃদ্ধরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন। অতিরিক্ত রোগী থাকায় চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের।

এরই মধ্যে সেবা নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন রোগীর স্বজনরা।ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় একই বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে দুজন করে শিশু।আবার অনেকেই বেড না পেয়ে অবস্থান নিয়েছেন হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতে।

শনিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতা ২৪ জন থাকলেও ভর্তি রয়েছেন ৭১ জন শিশু।যাদের বেশিরভাগই ঠণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে।

ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।এছাড়া বহিঃর্বিভাগ থেকেও প্রতিদিন গড়ে ২ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছে।

রোগীর স্বজনরা জানায়, শীতের দাপটে শিশুরা নানা ধরনের রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও পড়তে হচ্ছে নানান ভোগান্তিতে।প্রকট ঠাণ্ডায় বেড না পেয়ে বারান্দা-মেঝেতে শিশুদের নিয়ে কষ্টে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের।এ ঠাণ্ডায় উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা।

শিশু সন্তানকে চিকিৎসা করাতে আসা এক বাবা রবিউল শেখ জনান, ২ দিন হল হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। এখনও বেড পাননি।তাই এই চরম ঠাণ্ডায় মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরেক রোগীর স্বজন রাবেয়া আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি।বাচ্চা ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে কিন্তু এই ঠাণ্ডায় আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি। রোগীর ভিড়ে ঠিকমত ডাক্তার-নার্সদের দেখা পাচ্ছিনা।এজন্য শিশুদের সুস্থ হতেও সময় বেশী লাগছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহাবুবুর রহমান মিলন জানান, শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে।অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি।তবে এই শীতে সবাইকে সচেতন ও যত্নবান হতে হবে।বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে।তা না হলে শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।আরও কয়েকদিন এরকম আবহওয়া বিরাজ করবে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শীতের আঘাত শিশুর গায়ে

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩

চুয়াডাঙ্গায় অব্যহত রয়েছে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ। মাঘের হাড় কাপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস।আর ২২ ই জানুয়ারি রোববার সকাল নয়টায় তাপমাত্রা দাঁড়ায় ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় সূর্যের উত্তাপ কাজে আসছে না।হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।শীতের প্রভাব পড়েছে শিশু এবং বৃদ্ধদের ওপর।টানা শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। ভীড় জমাচ্ছে হাসপাতালে।

টানা শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে চুয়াডাঙ্গায়।প্রতিদিন নতুন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে।ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৪ গুন বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে।বেশির ভাগ শিশু-বৃদ্ধরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন। অতিরিক্ত রোগী থাকায় চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের।

এরই মধ্যে সেবা নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন রোগীর স্বজনরা।ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় একই বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে দুজন করে শিশু।আবার অনেকেই বেড না পেয়ে অবস্থান নিয়েছেন হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতে।

শনিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতা ২৪ জন থাকলেও ভর্তি রয়েছেন ৭১ জন শিশু।যাদের বেশিরভাগই ঠণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে।

ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।এছাড়া বহিঃর্বিভাগ থেকেও প্রতিদিন গড়ে ২ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছে।

রোগীর স্বজনরা জানায়, শীতের দাপটে শিশুরা নানা ধরনের রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও পড়তে হচ্ছে নানান ভোগান্তিতে।প্রকট ঠাণ্ডায় বেড না পেয়ে বারান্দা-মেঝেতে শিশুদের নিয়ে কষ্টে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের।এ ঠাণ্ডায় উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা।

শিশু সন্তানকে চিকিৎসা করাতে আসা এক বাবা রবিউল শেখ জনান, ২ দিন হল হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। এখনও বেড পাননি।তাই এই চরম ঠাণ্ডায় মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরেক রোগীর স্বজন রাবেয়া আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি।বাচ্চা ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে কিন্তু এই ঠাণ্ডায় আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি। রোগীর ভিড়ে ঠিকমত ডাক্তার-নার্সদের দেখা পাচ্ছিনা।এজন্য শিশুদের সুস্থ হতেও সময় বেশী লাগছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহাবুবুর রহমান মিলন জানান, শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে।অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি।তবে এই শীতে সবাইকে সচেতন ও যত্নবান হতে হবে।বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে।তা না হলে শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।আরও কয়েকদিন এরকম আবহওয়া বিরাজ করবে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।