রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর শ্রদ্ধা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় রেজাউল করিম মন্টুকে নির্বাচিত করতে এলাকাবাসীর মতবিনিময় সারিয়াকান্দিতে পালিত হয়েছে ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ রাজশাহীতে ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছে ডাঃ আল আমিন বাগমারায় মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির জাতীয় বীমা দিবস পালন সারিয়াকান্দিতে জাতীয় বীমা দিবস পালিত রাজশাহীতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি’র অবস্থান কর্মসূচি পালন,বরেন্দ্র ভবন ঘেরাও প্রতিবাদী সাংবাদিক খান মেহেদীর জন্মদিন আজ! মন্ত্রীসভায় শপথ গ্রহণের ডাক পেলেন আব্দুল ওয়াদুদ দারা রাজশাহীর প্রবীণ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শরীফের মৃত্যুতে মহানগর জাসদের শোক
নোটিশ :
দেশের জনপ্রিয় সর্বাধুনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণকৃত রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নতুনধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘যমুনা প্রতিদিন ডট কম’

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

লেখক- শ্যামল শীল :

‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটি একটি ছাত্রের কাছে স্বপ্নের মতো, আর সেটা যদি হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাহলে সেই স্বপ্ন গগনচুম্বীর মতো কাজ করে।তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মাঝেই সব সার্থকতা না, সার্থকতা তখনই আসে যখন একজন শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে কর্মজীবনে সাফল্যের সঙ্গে বিস্তার লাভ করতে পারে।তবে এসব সার্থকতা শিক্ষার্থীরা অতি সহজেই অর্জন করতে পারে না, আসে অনেক প্রতিবন্ধকতা, আর সেসব প্রতিবন্ধকতাকে উপড়ে ফেলে যে চলতে পারে, তার কাছেই সাফল্য নামক বস্তুটা অনেক সহজ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রতিটা বর্ষেই আমরা সাধারণত কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি।আর সেই সমস্যাগুলোর সঠিক সমাধান না পেয়ে কিছু কিছু ছাত্র মুখ থুবরে পড়ে যায়।

কলেজের গন্ডি পার হয়ে যখন একটা ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, প্রথমে সে নতুন পরিবেশ, বড় ক্যাম্পাস, চাকচিক্য দেখেই নিজেকে সেগুলোর বেড়াজালের মোহে আটকিয়ে ফেলে।আর আমাদের তথাকথিত সমাজের কিছু সিনিয়র আছে, যারা সচরাচর বলে থাকে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই আর কোনো চাপ নেই, তোমাকে রেগুলার ক্লাস করতে হবে না, বেশি পড়ালেখা করতে হবে না, শুধু মজাই মজা।

আর এই গোড়ামি ধারণাকে পোষণ করে ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকই প্রতিদিনই আসে, কিন্তু মেতে থাকে গল্প আড্ডায়।

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকে ক্লাসে ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে কেউ আসলে বুঝে উঠতে পারে না, যে কে কেমন স্বভাবের।তাই কারো সখ্য যদি ক্লাসের সবচেয়ে ফাঁকিবাজ, খারাপ, নেশাগ্রস্ত ছাত্রের সঙ্গে হয় তাহলে তার ভালো পথে ফিরে আসা খুবই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের স্কুল-কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যবস্থা এবং সিলেবাস সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।আমাদের স্কুল-কলেজে শিক্ষকরা সচরাচর বাংলাতে পাঠদান করে থাকত, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকরা ইংরেজিতে লেকচার দেন, ফলে সহজে একটা ছাত্র তা আয়ত্ত করতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কাজ গ্রুপভিত্তিক হয়ে থাকে ৫ থেকে ১০ জন মিলে একটা গ্রুপের কাজ করতে হয়।যদি গ্রুপ নির্বাচন সঠিক না হয়।যেমন-একটা গ্রুপে তুমি ছাড়া আর কেউ তেমন কাজ পারে না বা কাজ করতে আগ্রহী নয়, তখন নিজেই একা সব কাজ করতে হয়, সেটা অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হয়ে যায়।বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য এসাইনমেন্ট, রিপোর্ট, প্রেজেন্টশন ইত্যাদি আরো কোর্স রিলেটেড অনেক কিছু করতে হয়।

ভার্সিটির প্রথম দিকে আসলে একটা ছাত্রছাত্রী বুঝে উঠতে পারে না যে সেটা কীভাবে প্রস্তুত করবে অথবা অনেকের কাছে কম্পিউটার অব্দি থাকে না কাজ করার জন্য।ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু কোর্সে সম্মুখীন হতে হয় প্রেজেন্টেশনের, অনেকেই প্রথমাবস্থায় পাওয়ার পয়েন্টে কাজ করতেও জানে না স্লাইড বানানোর ক্ষেত্রে।

তাছাড়া প্রেজেন্টেশনের জন্য দরকার হয় ফরমাল শার্ট, প্যান্ট, জুতা, যা সাধারণত একটা ছাত্র ভার্সিটির আগে পরতে অভ্যস্ত নয়।হঠাৎ করে এতসব কিছু ম্যানেজ করা ও কিছু ছাত্রের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

প্রতিটি কোর্সে ৬ থেকে ৭টা লেকচার শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরই শুরু হয়ে যায় মিড টার্ম পরিক্ষা।কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে মনোযোগ না প্রদানের কারণে অথবা ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণে মিড টার্মগুলো ভালোভাবে দিতে পারে না।কিছু কিছু ছাত্র তো মিডের জন্য তেমন প্রস্তুতিই নেয় না এই ভেবে যে ফাইনালে ভালো করে পরে এক্সাম দিবে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তটা ভুল হিসেবে অচিরেই প্রমাণিত হয়।

ভার্সিটিতে উপস্থিতির জন্য একটা মার্কস থাকে, আর কোনো ছাত্র যদি ৭০ শতাংশের নিচে উপস্থিতি থাকে তাহলে তাকে পরীক্ষা দিতেও অনুমতি দেয় না, যেহেতু ভার্সিটির প্রথম দিকে অনেকেই তেমন ক্লাস করে না, তাই তখন তাদের পরীক্ষার আগে দিয়ে এসে অনেকটা ঝামেলা পোহাতে হয়।

ভার্সিটির প্রথম বর্ষে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হয় ফাইনাল এক্সামে এসে।একটা ছাত্র ভালোভাবে বুঝতেও পারে না যে তাদের প্রশ্নপদ্ধতি কেমন হয় এবং তাদের কীভাবে প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।কারণ ভার্সিটির প্রশ্ন আর স্কুল কলেজে পড়ে আসা প্রশ্ন পদ্ধতি অনেকটাই ভিন্ন।তাছাড়া এখানে সবকিছু ইংরেজিতে উত্তর দিতে হয়।ফলে তারা প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় তেমন আশানুরূপ ফলাফল করতে পারে না, এমনকি অনেকের রেজাল্ট এত খারাপ হয় যেটার মাশুল গুনতে হয় বাকি তিনটি বছর।

ভার্সিটিতে নিজেকে হইহুল্লোড় করে বিলাসিতার জোয়ারে না ভাসিয়ে দিয়ে প্রথমে চুপচাপ থেকে আশপাশের পরিবেশটা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।এভাবে কিছুদিন থাকার পরে তুমি সহজেই চিহ্নিত করতে পারবে যে কারা ভালো, পরিশ্রমী এবং তোমার সঙ্গে তাদের মানসিকতা মিলে কি না।

এমন কিছু স্টুডেন্টদের সঙ্গেই গ্রুপ করতে হবে যাদের সঙ্গে শুধু চারটা বছর নয়, পুরোটা জীবন যেন ভালো সম্পর্ক রাখা যায়।তবে এমনটা নয় যে, গ্রুপ ছাড়া তুমি আর অন্য কারো সঙ্গে মিশবে না, অবশ্যই তোমাকে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।অবশ্যই তোমাকে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে।কারণ এটা স্কুল কলেজ নয় যে ক্লাস না করে প্রাইভেট পড়ে সব সিলেবাস শেষ করে নিব।

ভার্সিটিতে টিচার যা পড়াবেন তাই যথেষ্ট আলাদা করে আর টিউশন নিতে হয় না।তবে কোনো দিন যদি প্রয়োজনীয় কাজে না উপস্থিত থাকতে পারো, তাহলে অবশ্যই ক্লাসে যে ভালো বুঝে তার কাছে থেকে ওই দিনের লেকচারটা বুঝে নিবে।ক্লাস লেকচারে অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে।ক্লাসে টিচার কী বলে তা সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখে ফেলতে হবে।কারণ, তারা এমন কিছু কথা বলে যা বইয়ে লিখা থাকে না, তাদের উক্তি দ্বারা সেই পঠিতব্য বিষয়টি সহজে বোঝা যায়।কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হলে সেটা অন্যদের থেকে কপি না করে, নিজে বাসায় বসে বসে সুন্দরভাবে সেটা সম্পন্ন করবে প্রয়োজনে গুগলের সাহায্য নিবে এতে করে অনেক কিছু জানা যায়।কোনো গ্রুপভিত্তিক কাজ দিলে গ্রুপের সবাই মিলে সেটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে।যদিও একটা গ্রুপের সবাই সবকিছুতে এক্সপার্ট না, তাই বলে চেষ্টা করতে হবে, যে পারবে না বলে দিল আসলে তারই জীবনে ক্ষতি হয়ে গেল; কেননা তার আর ওই কাজটা শেখাই হলো না।

যতদূর সম্ভব প্রতিদিনের ক্লাস লেকচার প্রতিদিনই বাসায় গিয়ে সম্পূর্ণ করে ফেলা, এতে করে পরীক্ষার আগে তত বেশি চাপ পরে না।কেউ হয়তো ঠিকই বলেছে যে, ভার্সিটিতে কলেজের মতো এত বেশি পড়তে হয় না।কিন্তু তার মেধা ও মননশীলতাকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হবে।মিড টার্মের আগে অবশ্যই ভালো প্রিপারেশন নিতে হবে।কেননা, ফাইনালের সময় সবাই ভালো করে পড়ে কিন্তু মিড টার্ম ও অ্যাসাইনমেন্টের ৪০ নম্বরে যদি তুমি ভালো না করতে পারো তাহলে তোমার ভালো ফলাফল আশা করা সম্ভব নয়।

সিলেবাস এবং অন্যান্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই তুমি তোমার নিজ ডিপার্টমেন্টের সিনিয়রদের পরামর্শ নিতে পারো যে, কীভাবে কি করলে ভালো হয়।তা ছাড়া ভার্সিটির শিক্ষকরা অনেক বন্ধুসুলভ ও হেল্পফুল হয়, বিশেষ কোনো সমস্যার প্রয়োজনে তুমি শিক্ষকদের মূল্যবান মতামতও নিতে পারো।

সারা বছর অনেক পড়লাম, অনেক ভালো পরীক্ষা ও দিলাম কিন্তু ভালো নাম্বার পেলাম না।পরীক্ষায় ভালো করার জন্য প্রয়োজন ভালো প্রস্তুতি, অনেকেই বলে পরীক্ষার আগের বন্ধে সবকিছু পড়ে শেষ করে ফেলব।কিন্তু সেই ২-৩ দিনের বন্ধে আসলে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।

পরীক্ষায় ভালো করার কিছু দিক রয়েছে।সেগুলো হলো- একটা ছাত্রকে প্রত্যেকটা কোর্সের জন্য আলাদা খাতা রাখতে হবে।নিয়মিত সে ক্লাসে নিজ নিজ কোর্স লেকচারগুলো তুলবে।কেননা একই খাতায় যদি সব কোর্স লেখা হয় তাহলে প্রয়োজনের সময় কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় না।কোর্স সম্পর্কিত যত অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়, তার একটা কপি ছাত্রের কাছে রেখে দিতে হবে।কেননা ফাইনালে মাঝে মাঝে অ্যাসাইনমেন্টের এই টপিকগুলো থেকেও প্রশ্ন আসে।বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখে ধারণা নিতে হবে, যে কেমন ধরনের প্রশ্ন সাধারণত পরীক্ষায় আসে এবং সেগুলোর ওপর বেশি জোর দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ